কী বলল দিল্লি হাইকোর্ট? বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস তারপর ঠিকুজি কোষ্ঠী না মেলার অজুহাতে বিয়ে থেকে পিছিয়ে এলে কী হবে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের। আদালত জানিয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরে ঠিকুজি কোষ্ঠীর অজুহাত দেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬৯-এর অধীনে মামলা চলতে পারে। এই ধারায় ‘প্রতারণার মাধ্যমে স্থাপিত যৌন সম্পর্ক’-কে অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে।
বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার বেঞ্চ এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন শুনছিলেন। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ৪ জানুয়ারি থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। আদালত অভিযুক্তের, জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানায়, সম্পর্কটি পারস্পরিক সম্মতিতে হয়েছিল। দু’জন একে অপরকে আট বছর ধরে চিনত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত বারবার ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। যার মধ্যে ঠিকুজি কোষ্ঠি মেলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিচারপতির নির্দেশ, ভুক্তভোগী প্রথমবার ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের পাকা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তার জেরে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।
তবুও পরে আবার ঠিকুজি কোষ্ঠী না মেলার অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই ঘটনায় Indian Penal Code-র ধারা ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬৯-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এটি কেবল সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সাধারণ ঘটনা নয়, বরং অভিযুক্তের প্রতিশ্রুতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা বলেন, 'শুধু সম্পর্ক ভেঙে গেলে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা যায় না, কিন্তু বর্তমান মামলা ভিন্ন মাত্রার। আগে আশ্বাস দেওয়া এবং পরে কোষ্ঠীর অজুহাতে বিয়ে থেকে সরে আসা, এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।'
এর পাশাপাশি আদালত অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে কোনওরকম রেহাই দেওয়ার পক্ষে আদালত নয় বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।