ফাইল ছবিবাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক পুরোনো সতর্কবার্তা ঘিরে ফের নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে এক মার্কিন ভাড়াটে সেনা-সহ কয়েকজন বিদেশির গ্রেফতারির পর, সেই সতর্কবার্তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সম্প্রতি এনআইএ একটি গোপন অভিযানে মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-সহ কয়েকজন বিদেশিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, তাঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরামে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখান থেকে অশান্ত মায়ানমারে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে তা এই গোষ্ঠীগুলির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উল্লেখযোগ্য, এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বের বিদ্রোহী সংগঠনগুলির যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ।
গ্রেফতার হওয়া ম্যাথিউ ভ্যানডাইক আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত একটি নাম। তিনি অতীতে লিবিয়া ও সিরিয়ার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি ‘সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যা বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করে বলে জানা যায়।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে শেখ হাসিনার পুরনো দাবি। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এক ‘শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি’ তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বিদেশি শক্তিকে ঘাঁটি গড়তে দিলে তাঁকে ক্ষমতায় ফিরতে সাহায্য করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বঙ্গপোসাগরের সংলগ্ন এলাকা, বিশেষত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের ষড়যন্ত্র হতে পারে।
যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবু সাম্প্রতিক গ্রেফতারি সেই জল্পনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় বিদেশি চক্র এবং মায়ানমারের অশান্ত পরিস্থিতি, এই দুইয়ের মধ্যে কোনও বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা লুকিয়ে থাকতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত এনআইএ বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার দাবির সঙ্গে এই গ্রেফতারির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়নি।
অন্যদিকে, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমাও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বহু বিদেশি নাগরিক ওই অঞ্চলে আসা-যাওয়া করেছেন, যাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।