জলচুক্তি নিয়ে ভারকের বিরুদ্ধে ঘোঁট পাকাচ্ছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ?তিস্তা থেকে শুরু করে সিন্ধু পর্যন্ত, দুই নদী নিয়ে কূটনৈতিক ধরন যেন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের একই। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জলকে অস্ত্র করেই কূটনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী শহিদুদ্দিন চৌধুরী আনি দাবি করেছেন, ভারত যেন গঙ্গা জল চুক্তিতে একটি গ্যারান্টি অন্তর্ভুক্ত করে এবং তিস্তা নদীর জল ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশি মন্ত্রী প্রকাশ্যে কার্যত হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত যদি এই দাবি না মানে, তবে বাংলাদেশ UN-এর মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে।
বিশেষ বিষয় হল, এর আগে পাকিস্তানও সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ইউনাইটেড নেশনের সিকিউরিটি কাউন্সিলে গিয়েছিল। এবার বাংলাদেশের গলাতেও সেই একই সুর ধরা পড়ছে। উভয় দেশের কৌশলের এই সুস্পষ্ট মিল তুলছে নতুন প্রশ্ন। জল ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে এই দুই প্রতিবেশী কি একজোট হচ্ছে?
বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী শহিদুদ্দিন চৌধুরী আনি ১৯ অগাস্ট ঢাকায় একটি সেমিনারে এই দাবি জানান। তিনি বলেন, গঙ্গা জল চুক্তি রিনিউয়াল-এর সময় তাতে একটি 'গ্যারান্টি' যুক্ত করতে হবে। বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ধারাটি ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে ছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালে হওয়া ৩০ বছরের একটি চুক্তি থেকে তা বাদ দেওয়া হয়। এই একই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। বর্তমানে এই চুক্তিতে কোনও গ্যারান্টি যুক্ত করা নেই। শহিদুদ্দিন চৌধুরী আনি এটিকে বাংলাদেশের অধিকার হিসেবে দাবি করেছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। তবে তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফাইলটি পর্যালোচনা করছেন এবং ভারতের সহযোগিতায় কিংবা অন্য কোনও প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মাসে UN-এ বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবেন।
জলচুক্তিতে গ্যারান্টি যুক্ত করার অর্থ কী?
গ্যারান্টি দেওয়ার অর্থ হল গরমকালে ফারাক্কা ব্যারেজের জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও বাংলাদেশ একটি ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ জল পাবেই। ১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারেজের জলস্তর ৭০,০০০ কিউসেকের নিচে নেমে গেলে জল দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে সংবেদনশীল সময় হিসেবে ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়কে বিবেচনা করা হয়, যখন জলস্তর সর্বনিম্ন থাকে। এই সময়ে একটি দশ দিনের পালাবদল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে উভয় দেশে কৃষিকাজ অব্যাহত থাকে। মন্ত্রী দাবি করেছেন, জলের প্রাপ্যতা যতই কম হোক না কেন, সর্বনিম্ন জলস্তরেও বাংলাদেশ যেন একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম অংশ পেতে থাকে।