Food Safety Raid: ফাইভ স্টার হোটেলের পর এবার নামী বারেও উদ্ধার ৪৫ কেজি পচা মাংস

Bengaluru Food Safety Raid: বড়, সাজানো রেস্তোরাঁয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান। ৪৫ কেজি পচা মাংস, মেয়াদ পেরোনো দুধ-দই-সহ ৫১ কেজি খাবার উদ্ধার।

Advertisement
ফাইভ স্টার হোটেলের পর এবার নামী বারেও উদ্ধার ৪৫ কেজি পচা মাংস ৪৫ কেজি পচা মাংস, মেয়াদ পেরোনো দুধ-দই-সহ ৫১ কেজি খাবার উদ্ধার।
হাইলাইটস
  • নামজাদা পানশালার রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৪৫ কেজি পচা মাংস।
  • মাংসে ছত্রাকও গজিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ, দই এবং অজস্ত্র পচা খাবারদাবার মিলেছে। 

Restaurant Raid: বাইরে থেকে সাজানো গোছানো। খাবারের অনেক দাম। কিন্তু ভিতরটি অন্তঃসারশূন্য। একের পর এক নামী হোটেলে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। এ বার ফ্যান্সি বারও বাদ গেল না। হঠাৎ হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কর্তারা। আর সেই অভিযানেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর ছবি(ভিডিও দেখতে নিচে যান)। একটি নামজাদা পানশালার রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৪৫ কেজি পচা মাংস। শুধু পচা নয়, ওই মাংসে ছত্রাকও গজিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ, দই এবং অজস্ত্র পচা খাবারদাবার মিলেছে। 

খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার অভিযোগে বেঙ্গালুরুর একটি পানশালা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি শহরের একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবার সরবরাহকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের তোরজোড় শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে এমনিতেই আইটি, স্টার্টআপ কর্মীদের ভিড়। সেই কারণে হোটেল-বারের রমরমা। আর এমন জায়গাতেই এই অবস্থা দেখে হতবাক সকলে। এ যেন বাস্তবেই জনপ্রিয় দক্ষিণী সিনেমা Aruvam এর কোনও সিন। 

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একাধিক পাঁচতারা হোটেলেও অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। সেখানে খাবার সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। তার পরেই শহর জুড়ে খাবারের গুণমান এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আরও বড় অভিযান শুরু হয়েছে। 
দেখুন ভিডিও:

পানশালার রান্নাঘরে ৪৫ কেজি পচা মাংস
বেঙ্গালুরুর ইউবি সিটি বিলাসবহুল শপিং মলের ভিতরে রয়েছে স্কাইয়ে লাউঞ্জ। সেখানেই হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা। রান্নাঘরের পরিস্থিতি দেখে তাঁরা অসন্তুষ্ট হন। অভিযোগ, রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতার যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একাধিক নিয়ম মানা হয়নি।

অভিযানে রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় পচা মুরগি এবং গরুর মাংস। মোট প্রায় ৪৫ কেজি মাংস খাওয়ার অযোগ্য অবস্থায় ছিল বলে জানানো হয়েছে। ওই মাংসের গায়ে ছত্রাক জন্মানোরও প্রমাণ মেলে। পরিস্থিতি দেখে সংশ্লিষ্ট পানশালার রান্নাঘর বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Advertisement

শুধু মাংস নয়, সেখান থেকে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া দুধ এবং দইও উদ্ধার হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, ওই দু’টি খাদ্যপণ্যের মেয়াদ প্রায় ১০ দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।

সব মিলিয়ে স্কাইয়ে লাউঞ্জ থেকে প্রায় ৫১ কেজি খাদ্যসামগ্রী খাওয়ার অযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল ৪৫ কেজি পচা মাংস এবং প্রায় ৬ কেজি ভেজিটেবল কাটলেট। নিয়ম মেনে ওই খাবারগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ লিটার ব্যবহৃত রান্নার তেলও ফেলে দেওয়া হয়।

আরও একাধিক হোটেলে অভিযান
বেঙ্গালুরুর অন্য হোটেল এবং খাবারের দোকানগুলিতেও একই অভিযানে একাধিক খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কোথাও বিপুল পরিমাণ মাছ-মাংস উদ্ধার হয়েছে, কোথাও আবার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকা খাবার পাওয়া গিয়েছে।

রয়্যাল চেন হোটেল থেকে ৫০ কেজি হাঁসের মাংস এবং ৫ কেজি মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই হোটেল থেকেই মোট ৫৫ কেজি খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

মাদ্রাস কিচেন থেকে ৫ কেজি কাঁচা মটরশুঁটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে টেসকন হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫ কেজি মাশরুম।

সেনচেজ হোটেল থেকেও মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩ কেজি মাছ উদ্ধার হয়। এ ছাড়া কেক, আলু এবং টাকো-সহ আরও প্রায় ৭ কেজি খাদ্যসামগ্রী খাওয়ার অনুপযুক্ত হওয়ায় নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই অভিযান শুধু হোটেল বা রেস্তরাঁর রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যে সমস্ত সংস্থা বিভিন্ন হোটেল ও ক্যাটারিং সংস্থায় খাবার এবং খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে, তাদের গুদামেও হানা দেওয়া হয়।

খাবার সরবরাহকারী সংস্থার গুদামেও অনিয়ম
বেঙ্গালুরুর একাধিক নামী হোটেলে খাবার সরবরাহ করে কোল্ডম্যান লজিস্টিক্স এবং রাধাকৃষ্ণ ফুডল্যান্ড। এই দুই সংস্থার খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ কেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের সময় প্রায় ৭০ কেজি সয়া সস এবং বিভিন্ন ধরনের সস উদ্ধার করা হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, ওই সসগুলির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। তাই সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পানীয়ের উপরেও নজরদারি চালানো হয়। প্রায় ১০ লিটার পানীয় উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ছিল স্ট্রবেরি-ফ্লেভারের পানীয় এবং অন্যান্য কিছু ড্রিঙ্ক। সেগুলিরও মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিল বলে জানিয়েছে দফতর।

অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। আধিকারিকেরা মোট ৫টি মাংসের নমুনা এবং আরও ১৩টি খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কড়া পদক্ষেপ
খাদ্য সুরক্ষা দফতর জানিয়েছে, খাবার নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কোনও হোটেল, রেস্তরাঁ, পানশালা বা খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা নিয়ম ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাবারে পচন ধরার পরেও তা সংরক্ষণ করা, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করা কিংবা অপরিচ্ছন্ন জায়গায় খাবার রাখা; এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।  

POST A COMMENT
Advertisement