ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল বিহারের বেগুসরাইয়ে।Begusarai fake cigarette factory: নকল সিগারেট কারখানায় হানায় গিয়ে পুলিশেরই বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ। পরিবারের সকলকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল বিহারের বেগুসরাইয়ে। ঘটনায় ‘টাইগার মোবাইল’-এর এক পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই ৩ লক্ষ টাকা। তবে তিনি এখনও পলাতক।
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বেগুসরাই শহরের নগর থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১২ মে খবর পাওয়া যায় যে মহম্মদপুর এলাকায় বড় আকারে নকল সিগারেট তৈরির কারখানা চলছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হানা দেন ‘টাইগার মোবাইল’-এর দুই পুলিশকর্মী অমন কুমার এবং অঙ্কেশ কুমার।
অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৪০০ প্যাকেট বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট, ৩৬০০টি খালি সিগারেট প্যাকেট, ৫০০-রও বেশি নকল জর্দার প্যাকেট এবং একটি প্রিন্টিং মেশিন। ওই সময় ব্যবসায়ী শিবশক্তি কুমারকে আটকও করা হয়।
অভিযোগ, অভিযানের সময়ই ব্যবসায়ীর গোটা পরিবারকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান দুই পুলিশকর্মী। সেই ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার শিবশক্তির ছেলে নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, দুই পুলিশকর্মী অমন কুমার এবং অঙ্কেশ কুমার তাঁদের ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। জানা যায়, সাহারসার বাসিন্দা অঙ্কেশ কুমার ছুটির আবেদন করে বাড়ি চলে যান। অন্য দিকে, পুলিশ অমন কুমারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে অমন স্বীকার করেন যে দু’জনে মিলে ওই টাকা নিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, পুরো টাকাই অঙ্কেশের কাছে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল সাহারসায় অঙ্কেশের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।
যদিও সেখানে পৌঁছে পুলিশ অঙ্কেশকে পায়নি। তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা।
এর পর অমন কুমারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে পেশ করার পর তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে, পলাতক অঙ্কেশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন বেগুসরাইয়ের পুলিশ সুপার মনীশ। তিনি জানান, ১২ মে নকল সিগারেট কারখানার খবর পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানের সময়ই ব্যবসায়ীর পরিবারের সকলকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ সুপারের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতেই অমন কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অঙ্কেশ কুমারের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে দ্বিতীয় অভিযুক্ত এখনও অধরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নকল সিগারেট কারখানায় হানা দিতে গিয়ে উল্টে পুলিশের বিরুদ্ধেই তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।