
সপরিবারে বরুণ গান্ধী সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দলের মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে থাকা বরুণ গান্ধীর এই সাক্ষাৎ কি তবে তাঁর ‘রাজনৈতিক নির্বাসন’-এর অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বরুণ গান্ধী। তাঁর স্ত্রী ও কন্যাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে বরুণ লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। এমনকি তিনি মোদীর ব্যক্তিত্বকে ‘পিতৃতুল্য স্নেহ ও সুরক্ষার প্রতীক’ বলেও উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সাক্ষাৎকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিজেপির সঙ্গে বরুণ গান্ধীর দূরত্ব কমতে শুরু করেছে? উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পিলিভিট থেকে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয় জিতিন প্রাসাদাকে, যিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। এরপর থেকেই বরুণের সঙ্গে দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে, তাঁর মা মানেকা গান্ধীও গত লোকসভা নির্বাচনে সুলতানপুর থেকে পরাজিত হন। ফলে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক যে কিছুটা শীতল হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ সন্দেহ নেই।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বরুণ গান্ধীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে, একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন এই বৈঠকের সময়কাল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, আসন্ন নির্বাচনে দল যদি নতুন কৌশল নিতে চায়, তবে বরুণ গান্ধীর মতো পরিচিত মুখকে আবারও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। তাঁর স্ত্রী বাঙালি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও তাঁকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য বিনিময়েই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।