কার দখলে আসতে চলেছে মুম্বই? বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের ক্ষমতা দখল করতে চলেছে বিজেপি এবং একনাথ শিন্ডের শিবসেনার জোট। ইঙ্গিত বুথ ফেরত সমীক্ষায়। ইতিমধ্যেই Axis My India-র তরফে ভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎবাণী সামনে এসেছে। তাদের দাবি, মুম্বইয়ের ক্ষমতা দখল করতে চলেছে মহাযুতি জোট। দলবদ্ধভাবে লড়েও হাসি ফুটবে না ঠাকরে ভাইদের। চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে শুক্রবার সকাল ১০ টায়।
BMC-র ২২৭টি ওয়ার্ডের জন্য প্রায় ১৭০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা মিলবে ১১৪ আসন পেলেই। বুথ ফেরত সমীক্ষার দাবি, মহাযুতি জোট অনায়াসে অতিক্রম করবে এই সংখ্যা।
Axis My India-র বুথ ফেরত সমীক্ষায় দাবি, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ২২৭টি আসনের মধ্যে ১৩১ থেকে ১৫১টি আসন পাবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকবে উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরের জোট। তাদের দখলে যেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮ আসন।
প্রকাশ আম্বেদকরের বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ি-এর সঙ্গে এবারের ভোটে জোট করে লড়েছে কংগ্রেস। তারা পেতে পারে মাত্র ১২ থেকে ১৬ আসন। সুতরাং সমীক্ষা অনুযায়ী, ঠাকরে ভাইদের শক্ত ঘাঁটি বড় ধাক্কা খেতে পারে।
প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি জোট। মোট ভোটের ৪২ শতাংশ পেয়েছে বলে দাবি Axis My India-র। সেখানে ঠাকরে ভাইরা পেতে পারেন ৩২ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের জোট ও অন্য দলগুলোর মিলিত ভোটের হার হতে পারে ১৩ শতাংশ।
মারাঠি ভোটারদের ভোট বেশি পেয়েছেন উদ্ধব ঠাকরের জোট। হার প্রায় ৪৯ শতাংশ। সেখানে বিজেপি জোট এই অংশের মানুষের ভোট পেয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। কিন্তু উত্তর ভারতীয় ভোটাররা দু হাত দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। সেখান থেকে প্রায় ৬৮ শতাংশ। সমীক্ষায় ইঙ্গিত মুসলিমদের ভোট বেশি পেয়েছে কংগ্রেস। সেখানে বিজেপি মাত্র ১২ শতাংশ।
বেকাররা প্রায় সমান সমান ভোট দিয়েছে বিজেপি ও উদ্ধব ভাইদের। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার হতে পারে যথাক্রমে ৩৭ ও ৩৪ শতাংশ। তবে ছাত্র সমাজের সমর্থন বেশি মিলেছে অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীর দলের। শ্রমিক শ্রেণির ভোটেও এগিয়ে থাকার কথা তাদের।
সমীক্ষায় ইঙ্গিত, মহিলারা সবথেকে বেশি ভোট দিয়েছে বিজেপি জোটকে। প্রাপ্ত ভোট হতে পারে প্রায় ৪৪ শতাংশ। সেখানে ঠাকরে ভাইদের দখলে আসতে পারে ৩১ শতাংশ। পুরুষ ভোটাররাও আশা রেখেছে পদ্ম জোটের উপরই। দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে ঠাকরেদের জোট।
প্রসঙ্গত, সেই ১৯৮৫ সাল থেকে বিএমবি-তে একছত্র আধিপত্য ছিল শিবসেনার। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬। ২০১৭ সালে শিবসেনাকে বিজেপির বিরুদ্ধে কঠিল লড়াইয়ে পড়তে হয়। সেবার অবিভক্ত শিবসেনা পেয়েছিল ৮৪ আসন। গেরুয়া শিবির ৮২টি। ফলে মেয়র পদ ধরে রেখেছিল শিবসেনা।