BRCIS 2026 থেকে ভারত কী পেল?শেষ হয়ে গেল ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা বিশিষ্ট ১১টি দেশ, ১২টি সহযোগী দেশ, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘ-এর মতো ৫টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এই আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নিয়েছিল। সন্দেহ নেই, এই সামিটের মাধ্যমে ভারতের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর পৌঁছে গিয়েছে গোটা বিশ্বের কাছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে নামীদামি সাংবাদিকরাও দরাজ দিলে ভারতের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি, এই ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এমন পাঁচটি মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের ক্ষমতাকেই বৃদ্ধি করে।
প্রথম ঘোষণা পহেলগাঁও নিয়ে। পহেলগাঁও হামলার কথা উল্লেখ করে জঙ্গিদের সমর্থনের জন্য অর্থায়নের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়।
দ্বিতীয় প্রধান বিবৃতিটি হল, একতরফা যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌপথগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। সম্প্রতি হরমুজ সঙ্কটের দিকে নজর রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিকস সম্মেলনে আসা দেশগুলি।
তৃতীয়ত, ‘গ্লোবাল ভ্যালু চেইন ২০২৬ থেকে ২০৩০’-এর আওতায় বাজার উন্মুক্ত করা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর একতরফা ও যথেচ্ছভাবে শুল্ক আরোপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
চতুর্থত, পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্রিকস রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন সহযোগিতা চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়।
পঞ্চম, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের গঠনতন্ত্রে সংস্কারের দাবি তোলা হয়। একইসঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে গ্লোবাল সাউথের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি ওঠে।
সারা বিশ্ব যখন টানা যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন, অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে ব্রিকসের আয়োজন করে যেন বুদ্ধের শান্তির বার্তা দিল ভারত। এমনকি চিনও ব্রিকসে ওঠা একাধিক বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যকেই তুলে ধরছে।