Brijbhusan Sharan Singh: সেই বিতর্কিত ব্রিজভূষণ কি BJP ছাড়ছেন? অখিলেশের কথায় বড় ইঙ্গিত

তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল দিল্লি৷ আন্দোলনের জেরে মার খেতে হয়েছিল দেশের জন্য পদক জিতে আসা কুস্তিগীরদের৷ কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের খেলার জুতো জোড়া এবং মাইক দু’টোই ছেড়ে রেখে উঠে গিয়েছিলেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী সাক্ষী মালিক৷ সেই বিজেপি নেতা তথা কুস্তি তথা কুস্তি মহাসংঘের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং দল ছাড়তে চলেছেন বলে হাওয়ায় খবর ভাসছে।

Advertisement
সেই বিতর্কিত ব্রিজভূষণ কি BJP ছাড়ছেন? অখিলেশের কথায় বড় ইঙ্গিতউত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে দল পাল্টাচ্ছেন ব্রিজভূষণ?

তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়েছিল দিল্লি৷ আন্দোলনের জেরে মার খেতে হয়েছিল দেশের জন্য পদক জিতে আসা কুস্তিগীরদের৷ কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের খেলার জুতো জোড়া এবং মাইক দু’টোই ছেড়ে রেখে উঠে গিয়েছিলেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী সাক্ষী মালিক৷ সেই  বিজেপি নেতা তথা কুস্তি  তথা কুস্তি মহাসংঘের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং দল ছাড়তে চলেছেন বলে হাওয়ায় খবর ভাসছে।

উত্তর প্রদেশে রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত এবং 'কাইজারগঞ্জের দাবাং' নামে খ্যাত বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং কি দলবদল করতে চলেছেন? এই প্রশ্নটি এমনি এমনি ওঠেনি, ব্রিজভূষণ সিং নিজেই বলেছেন, 'যদি আমাকে  বোঝা মনে হয়, তাহলে শুধু বলে দেবেন যে আমার আর প্রয়োজন নেই।' এই মন্তব্যটি প্রশ্ন তুলেছে, তিনি কি বিজেপির মধ্যে অস্বস্তি বোধ করছেন, যার কারণে তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন?

এদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের রাজনৈতিক অবস্থান ব্রিজভূষণ সিংয়ের প্রতি নরম। ব্রিজভূষণ সিংকেও অখিলেশের প্রতি সদয় বলেই মনে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে বিজেপিতে অস্বস্তিতে থাকা ব্রিজভূষণ সিং কি এবার এসপির সাইকেলে চড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের সমাজবাদী পার্টিতে যোগদান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অখিলেশ যাদব সংযত স্বরে উত্তর দেন। তিনি ব্রিজভূষণ সিংকে 'তাঁর নেতা' এবং 'গোন্ডার নেতা' হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে জল্পনা শুরু হয়, কিন্তু ব্রিজভূষণ সিংয়ের পক্ষে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কি সহজ?

ব্রিজভূষণ শরণ সিং এমন মনোভাব দেখিয়েছেন
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ সিং চার দিন আগে বিহারের ভাগলপুরে বাবু বীর কুঁয়র সিং-এর বিজয় উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি রাজনীতিতে রাজপুত সম্প্রদায়ের অবহেলিত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। কারও নাম উল্লেখ না করে ব্রিজভূষণ শরণ সিং বলেন, 'সরকার যদি আজ আমাদের অকেজো মনে করে, তবে আমাদের জানিয়ে দিন।'

Advertisement

ব্রিজভূষণ সিং বলেছেন, 'যদি কেউ মনে করেন যে আমরা বোঝা হয়ে গেছি, তাহলে শুধু একবার বলুন যে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। কথাটা ২০২৭ বা ২০২৯ সালে যখন খুশি বলুন। যখনই আপনাদের ইচ্ছে হবে, এসে আমাদের বলবেন, আমরা আপনাদের দেখিয়ে দেবো যে আমরা দরকারি কি না।' তিনি আরও বলেন, এখন আর কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় নয়। এখন আমাদের শক্তিগুলোকে চেনার সময়।

বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ সিং বলেছেন,'যখনই আমাদের উপর অত্যাচার হয়েছে, আমরা চুপ থেকেছি, এটা আমাদেরই দোষ, যে কারণে আমরা যথাযথ মনোযোগ পাই না। আমাদের মহান ব্যক্তিদের যথাযথ স্থান দিতে ব্যর্থ হওয়াটাও আমাদেরই দোষ।' ব্রিজভূষণের এই বক্তব্যকে কি রাজনৈতিক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে?

ব্রিজভূষণ সিং কি বিজেপিতে অস্বস্তি বোধ করছেন?
বিজেপির সঙ্গে ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরনো, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্কে ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মহিলা কুস্তিগীরদের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং তার জের ধরে সৃষ্ট বিতর্ক বিজেপিকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। ফলস্বরূপ, বিজেপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে টিকিট না দিয়ে তাঁর ছেলে করণ ভূষণ সিংকে প্রার্থী করে।

যদিও ব্রিজভূষণ সিংয়ের ছেলে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিজভূষণ সিংয়ের নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তাঁর থেকে তথাকথিত 'দূরত্ব তৈরি করা' তাঁর সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। ব্রিজভূষণ সিংয়ের মতো একজন নেতার জন্য, যিনি নিজের শর্তে রাজনীতি করার জন্য পরিচিত, প্রান্তিক হয়ে পড়াটা কখনোই স্বস্তিদায়ক ছিল না।

কিছুদিন ধরেই বিজেপিতে নিজের অবস্থান নিয়ে তাঁকে অস্বস্তিতে দেখা যাচ্ছে, কারণ তার নিজস্ব রাজনৈতিক স্টাইল রয়েছে। উপরন্তু, তিনি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন, কিন্তু বিজেপি তাঁকে তেমন রাজনৈতিক গুরুত্ব দিচ্ছে না। ব্রিজভূষণ বিজেপির অনুষ্ঠানগুলোতেও অনুপস্থিত থাকছেন, যে কারণে তিনি বর্তমানে ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।

ব্রিজভূষণ সিং অখিলেশ যাদবের প্রতি সদয়
ব্রিজভূষণ সিং সম্প্রতি অখিলেশ যাদবের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। দু'দিন আগে, অগ্নিদগ্ধ বিজেপি বিধায়ক অনুপমা জয়সওয়ালকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। এই ঘটনাকে ব্রিজভূষণ মহত্ত্বের নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছেন এবং অখিলেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি এও বলেছেন, রাজনীতিতে একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া একটি ভালো ঐতিহ্য।

ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির আগেও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিজেপির সঙ্গে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তিনি দলটি ছেড়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসপি-র সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও মুলায়ম পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তিনি প্রায়শই অখিলেশ যাদবের প্রশংসা করেন।

অখিলেশ যাদবও কখনও ব্রিজভূষণ সিংয়ের রাজনৈতিক সমালোচনা করেননি, যে কারণে এসপি প্রধানের সঙ্গে ব্রিজভূষণ সিংয়ের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া রয়েছে। ব্রিজভূষণ বিহারে বলেছেন, তিনি যদি বোঝা হয়ে থাকেন, তবে যেন তাঁকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। এক অর্থে, তিনি বিজেপিকে সূক্ষ্মভাবে এই বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁকে উপেক্ষা করার ভুল যেন তারা না করে, নইলে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

অখিলেশ যাদব ব্রিজভূষণ সিংয়ের প্রতি সদয়
ব্রিজভূষণ শরণ সিং বিজেপি ছেড়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার অখিলেশ যাদব হারদোইতে ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ব্রিজভূষণ সিং এসপি-তে যোগ দিচ্ছেন কি না। এসপি প্রধান অত্যন্ত সংযত স্বরে উত্তর দেন। বিজেপির পিডিএ (অনগ্রসর, দলিত, সংখ্যালঘু) নেতারা দল ছাড়তে চান, তাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন, অসুখী এবং অপমানিত বোধ করছেন। তাঁরা দল ছাড়তে চান। আর আমাদের সঙ্গে থাকা প্রাক্তন সাংসদ ও গোন্ডা নেতাই এই নিয়ে ভাল বলতে পারবেন।

Advertisement

অখিলেশ যাদব, ব্রিজভূষণকে উল্লেখ করে তাঁকে 'গোন্ডার সেই নেতা যিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন' বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে রাজনৈতিক মোড় ঘোরার পূর্বাভাস তিনিই সবচেয়ে ভালোভাবে দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে অখিলেশ যাদব বোঝেন যে ব্রিজভূষণের প্রভাব শুধু একটি আসনেই সীমাবদ্ধ নয়। গোন্ডা, বাহরাইচ, শ্রাবস্তী এবং অযোধ্যার কিছু অংশে তাঁর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

ব্রিজভূষণ সিংয়ের পক্ষে বিজেপি ছেড়ে যাওয়া কি সহজ?
ব্রিজভূষণ সিং বিজেপিতে অস্বস্তিতে থাকতে পারেন, কিন্তু দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি সহজ নয়। রাজনৈতিক চাপ এবং পারিবারিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাঁর দুই ছেলে বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদ এবং তাঁর মেয়েও রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে, বিজেপিও তাদের অন্যতম শক্তিশালী নেতাকে সহজে বিরোধী শিবিরে যোগ দিতে দেবে না, কারণ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে।

ব্রিজভূষণ সিং কি বিজেপির 'শৃঙ্খলা' মেনে চলবেন, নাকি নিজের আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য পথ ছাড়বেন? এই সিদ্ধান্তের কথা জানা যাবে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, এমনটা হলে তা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে প্রমাণিত হবে। রাজনৈতিক মহলে এটা সুবিদিত যে, ব্রিজভূষণ যেখানেই যান, একটি বিশাল কনভয় তাঁকে অনুসরণ করে। এই কনভয়টি গেরুয়া পতাকার অধীনে থাকবে, নাকি লাল টুপি পরবে, তা এখন সময়ের ব্যাপার।

POST A COMMENT
Advertisement