CCS মিটিংয়ে মোদীজ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। এমতাবস্থায় চুপ করে বসে নেই ইরানও। তারা ইজরায়েল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সমস্ত ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকী বন্ধ করেছে হরমুজ প্রণালীও। আর এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে তড়িঘড়ি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (সিসিএস) মিটিং করল ভারত সরকার। এই মিটিংয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
যতদূর খবর, এই মিটিংয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির ইরান হামলার বিষয়টি উঠে আসে। তারপর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, সেটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
ওই বৈঠকে ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিত ভারতীয়দের জন্যও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত সরকার।
এই বৈঠকে সিসিএস কমিটির সভ্যরা ওই সব দেশে উপস্থিত ভারতীয়দের অবস্থার কথাটা তুলে ধরেন। তাঁদের কীভাবে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই নিয়ে চলে আলোচনা। এছাড়া এই যুদ্ধের জন্য নিরাপত্তাজনিত কী কী সমস্যা হতে পারে, সেটাও তুলে ধরা হয়। এছাড়া এই বৈঠকে যুদ্ধের কারণে ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য ক্ষতির দিকটা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
মাথায় রাখতে হবে যে ভারত নিজের প্রয়োজনের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে। আর তার মধ্যে একটা বড় শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ। সেখানে আটকে রয়েছে তেল বোঝাই জাহাজ। যার ফলে সারা বিশ্বেই তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। আর এই বিষয়টাও মাথায় রয়েছে ভারত সরকারের। তারাও বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিকল্প রাস্তা খোঁজা চলছে।
তবে অর্থনৈতিক দিকটা বাদ দিলেও মূলত ভারত চিন্তিত নিজের নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে। এই বৈঠকে তাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উপস্থিত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ত্রুটি রাখতে চাইছে না সরকার। তাদের পক্ষ থেকে সকল ভারতীয় নাগরিকদের সব রকমভাবে সাহায্য করা হবে বলে এই মিটিংয়ে ঠিক করা হয়েছে। সেই মতো সব কূটনৈতিক রাস্তা খোলা রাখতে চাইছে ভারত সরকার।
UAE-এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন মোদী
এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে গিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও। এমতাবস্থায় সেখানে অনেক ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাই তড়িঘড়ি UAE-এর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সেখানে উপস্থিত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েই কথা বলেন বলে খবর।
মাথায় রাখতে হবে, ইতিমধ্যেই ইরান যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। তাই এটা সহজেই অনুমেয় যে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যেতে পারে।