কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে 'আপত্তিকর' মন্তব্যের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। ছত্তিশগড়ের রায়পুরে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগকারী বলেছেন, মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে।
মামলার তথ্য দিয়ে পুলিশ আধিকারিক রবিবার জানিয়েছেন - স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার মানা থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ১৯৬ ধারা (ধর্ম, বর্ণ, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার) এবং ১৯৭ ধারা (জাতীয় ঐক্যের ক্ষতি করার অভিযোগ, দাবি) এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র কী বলেছেন?
মহুয়া মৈত্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৬ অগাস্ট মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরে পাট্টা বিলির অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়ান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মহুয়া বলেন, 'ভারতের সীমান্তরক্ষার দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে বলে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় প্রথম সারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে নির্লজ্জভাবে হাততালি দিচ্ছিলেন। যদি ভারতের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে কেউ না থাকে, অন্য দেশের শয়ে শয়ে, লাখে লাখে মানুষ এদেশে ঢুকে পড়ে, তাহলে প্রথমেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাথা কেটে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে রাখা উচিত।' তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। কীভাবে একজন সাংসদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মাথা কেটে নেওয়া’র কথা বলতে পারেন, সে প্রশ্ন উঠতে থাকে। মহুয়ার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী মন্তব্যের সুর চড়ান একাধিক বিজেপি নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় গেরুয়া শিবির।
অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে
পুলিশ আধিকারিক বলেন, অভিযোগকারী গোপাল সামন্তো অভিযোগ করেছেন যে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য আপত্তিকর এবং অসাংবিধানিক। আধিকারিক জানান, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে ১৯৭১ সালে রায়পুরের মানা ক্যাম্প এলাকায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শরণার্থী বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং মহুয়য়া মৈত্রের বক্তব্য তাদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। কারণ এই ধরনের মন্তব্য অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে।