
নির্ভয়া কাণ্ডের ১২ বছর পরেও দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ অব্যাহত। এই প্রেক্ষাপটে, মহিলাদের সুরক্ষার জন্য প্যান-ইন্ডিয়া নির্দেশিকা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের হয়েছে। বিনামূল্যে অনলাইন পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা, যৌন অপরাধে দোষীদের রাসায়নিক কাস্টেশনের শাস্তি এবং জামিনের বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ মামলাটি শুনানির সময় আবেদনকারীর কিছু প্রস্তাবকে উদ্ভাবনী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বেঞ্চ বলেন, কিছু প্রস্তাব খুবই কঠোর। বেঞ্চ আরও বলেন, "আপনার প্রার্থনার মধ্যে গণপরিবহনে সামাজিক আচরণের জন্য নির্দেশিকা জারি করার প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নয়, বরং শিক্ষামূলকও। এটি বাস, মেট্রো, রেলওয়ে এবং বিমানবন্দরগুলিতে প্রদর্শন করা উচিত।"
আরজি কর হাসপাতাল প্রসঙ্গ
শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী মহালক্ষ্মী পাভানি উল্লেখ করেন, আরজি কর হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পর আরও ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেগুলো মিডিয়ায় স্থান পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনা কার্পেটের নীচে চাপা পড়ে যায়।”
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে ৩১ বছর বয়সী এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এই ঘটনা কলকাতা সহ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
আবেদনের মূল প্রস্তাব
আবেদনে যৌন অপরাধ দমন এবং মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি কঠোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
রাসায়নিক কাস্টেশন: যৌন অপরাধীদের জন্য শাস্তি হিসেবে রাসায়নিক কাস্টেশন চালু করা।
জামিনের বিধিনিষেধ: মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসার সঙ্গে জড়িত মামলাগুলিতে জামিনের বিধি কঠোর করা।
প্যান-ইন্ডিয়া নির্দেশিকা: গণপরিবহন এবং অন্যান্য জায়গায় মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সামাজিক আচরণের নির্দেশিকা প্রণয়ন।
তৃতীয় লিঙ্গের সুরক্ষা: তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা।
শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
বেঞ্চ জানায়, “শাস্তিমূলক আইন ও দণ্ডবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।” আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস নির্ধারণ করেছে।
সামাজিক বার্তা
২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের পর ধর্ষণ আইন কঠোর করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। আরজি কর হাসপাতাল সহ সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, মহিলাদের সুরক্ষার জন্য কেবল আইন নয়, সচেতনতা এবং কঠোর বাস্তবায়নও অত্যন্ত প্রয়োজন।