পাকিস্তান ও চিনকে হুঁশিয়ারি ভারতেরচিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে কড়া ভাষায় খারিজ করল ভারত। ওই বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখ করেছিল চিন এবং পাকিস্তান। সেই বিষয়ে নিজেদের আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অভিন্ন অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে করা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে খারিজ করছে। তিনি জানান, এই ইস্যুতে ভারতের অবস্থান আগেও স্পষ্ট ছিল এবং এখনও একই রয়েছে। তিনি এও জানান, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এই বিষয়ে অন্য কোনও দেশের মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই।
চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর এবং চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC)-এর উল্লেখের পরই ভারতের এই কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়া সিপিইসি প্রকল্পগুলিরও বিরোধিতা করেছে ভারত। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পগুলি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পরিপন্থী। এ নিয়ে চিন ও পাকিস্তানের কাছে একাধিকবার আপত্তিও জানিয়েছে ভারত।
যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতার প্রসঙ্গও খারিজ করেছে ভারত। দিল্লির বক্তব্য, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও অভিন্ন সীমান্ত নেই, ফলে এ ধরনের সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি ভারত ফের জানিয়েছে, ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে তারা কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে রয়েছেন। এই সফরে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই মঙ্গলবার চিন ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুর উল্লেখ করা হয়। চিনের তরফে বলা হয়, এটি একটি পুরনো বিরোধ এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে এর সমাধান হওয়া উচিত।