China Patallok: ইরানের মতোই যুদ্ধাস্ত্রের 'পাতাললোক' তৈরি করছে চিন, স্যাটেলাইটের ছবিতে ফাঁস

China Patallok: ড্রোনের নজরদারি আর স্যাটেলাইটের চোখকে ফাঁকি দিতে এবার মাটির নীচে আস্ত এক ‘পাতাললোক’ বা ভূগর্ভস্থ সামরিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে জিনপিংয়ের দেশ। সম্প্রতি বেশ কিছু উপগ্রহ চিত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

Advertisement
ইরানের মতোই যুদ্ধাস্ত্রের 'পাতাললোক' তৈরি করছে চিন, স্যাটেলাইটের ছবিতে ফাঁসচিনের গোপন ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র

China Underground Mlitary Complex: লাল চিনের আগ্রাসী মনোভাব আর বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার বেজিং যা ছক কষছে, তা জেনে ঘুম উড়তে বাধ্য মার্কিন প্রশাসনের। ড্রোনের নজরদারি আর স্যাটেলাইটের চোখকে ফাঁকি দিতে এবার মাটির নীচে আস্ত এক ‘পাতাললোক’ বা ভূগর্ভস্থ সামরিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে জিনপিংয়ের দেশ। সম্প্রতি বেশ কিছু উপগ্রহ চিত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ইরানের ধাঁচেই মাটির গভীরে দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত মিসাইল বেস বা গোপন সামরিক পরিকাঠামো তৈরিতে মেতেছে চিন।

রিপোর্টে প্রকাশ, চিনের শিনজিয়াং (Xinjiang) এবং গানসু (Gansu) প্রদেশের জনমানবহীন খাঁ খাঁ মরুভূমিতে এই বিশাল কর্মকাণ্ড চলছে। কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই গোপন নেটওয়ার্কে ইতিমধ্যেই ৮০টিরও বেশি লঞ্চ প্যাড, বাঙ্কার, অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন টাওয়ার এবং বিশাল সাপোর্ট সিস্টেমের হদিশ মিলেছে। মূলত পরমাণু মিসাইল সাইলোর (nuclear silos) চারপাশেই এই বিপুল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অতি-সুরক্ষিত নেটওয়ার্কের আসল উদ্দেশ্য হলো চিনের ‘second-strike capability’ বা দ্বিতীয়বার প্রত্যাঘাতের ক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, কোনো শত্রুদেশ যদি চিনের ওপর প্রথম পরমাণু হামলা চালিয়েও দেয়, তাহলেও মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই পরমাণु অস্ত্র ভাণ্ডার সম্পূর্ণ অক্ষত থাকবে এবং বেজিং নিমেষের মধ্যে পাল্টা পরমাণু হামলা চালাতে পারবে।

উপগ্রহ চিত্রে আরও দেখা গিয়েছে, শিনজিয়াং প্রদেশের ‘হামি’ (Hami) অঞ্চলের কাছেই মূল নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে দুটি দানবীয় অষ্টকোণীয় (octagon-shaped) সামরিক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে— যার একটি হামি সাইলো থেকে ১৪০ কিলোমিটার এবং অন্যটি ২৩০ किलोमीटर দূরে অবস্থিত। এই পুরো চত্বরকে চতুরতার সঙ্গে রেললাইন এবং এয়ারফিল্ডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই মরুভূমিতে এখন দেখা মিলছে বিশাল সামরিক যান, সেনার থাকার জায়গা, সাঁজোয়া বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা লঞ্চ সাইট, এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ব্যাটারি এবং দিকনির্ণয়কারী স্যাটেলাইট ডিশের। পাশাপাশি, চিনের ঐতিহাসিক পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্র ‘লপ নুর’ (Lop Nur) এলাকাতেও নতুন করে সুরঙ্গ তৈরি ও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

Advertisement

কী বলছেন বিশ্বখ্যাত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা?
এই চাঞ্চল্যকর উপগ্রহ চিত্র দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে প্রতিরক্ষা কূটনীতিবিদরা। ‘ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’-এর হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন সরাসরি স্বীকার করেছেন, “এমন অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর জিনিস আমি আগে কখনো দেখিনি।” অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার নিল জানান, এটি চিনের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। কার্নেগি এন্ডোমেন্টের তং ঝাও-এর মতে, এই আস্ত মাটির তলার দুনিয়া চিনের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ (C3) ব্যবস্থার প্রধান মগজ হিসেবেও কাজ করতে পারে।

আমেরিকাকে টেক্কা দেওয়াই কি চিনের লক্ষ্য?
২০২১ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন প্রায় ২৫०টি নতুন মিসাইল সাইলো তৈরি করছিল। আমেরিকা ও রাশিয়ার পর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম পরমাণু বিস্তার। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে চিনের ঝুলিতে চলে আসতে পারে প্রায় ১০০০টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড। যদিও মুখে বেজিং এখনও ‘No First Use’ (আগে পরমাণু হামলা না করার নীতি) দাবি করে, তবে আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা ভিন্ন। বিশেষ করে তাইওয়ান সংকটের সময়ে আমেরিকার ‘ফার্স্ট স্ট্রাইক’ বা প্রথম ধাক্কা থেকে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র বাঁচাতে এবং মোবাইল আইসিবিএম (ICBM) লঞ্চার মোতায়েন করে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই চিনের এই গোপন ‘পাতাল লোক’ কৌশল।

 

POST A COMMENT
Advertisement