সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে যাওয়া নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে তীব্র ভর্ৎসনা দিল্লি হাইকোর্টের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেখানে বিক্ষোভ বা কোনও কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেই প্রসঙ্গও তোলেন বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ। তারপরই তাঁর প্রশ্ন, 'যন্তর-মন্তরে গিয়েছিলেন কেন? বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট স্থানটির অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও সেখানে গেলেন কেন?'
এদিনের শুনানিতে আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সরাসরি হাইকোর্টে না এসে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তা না করে হাইকোর্টে এল কেন CJP? পরে অবশ্য হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন দুই নেতা।
কেন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দুই নেতা?
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গত ১৩ অক্টোবর আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, যন্তর-মন্তরে ঢোকার জন্য তাঁরা বন্ধ গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন। ওই সময় যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ১৯ অক্টোবর ফের তাঁদের দু’দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিজেপি। সংগঠনের নেতাদের হয়ে আইনজীবী অভীক চিমনি আদালতে জানান, ১৯ অক্টোবর এসইএম যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে।
‘সরাসরি হাইকোর্টে কেন?’
শুনানিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন করে, এসইএমের নির্দেশের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিভিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ ছিল। তা না করে সরাসরি হাইকোর্টে আসার কারণ কী? আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, এই ক্ষেত্রে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করা উপযুক্ত আইনি পথ কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিক্ষোভের স্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি জানতে চান, যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জায়গা হিসেবে ডিনোটিফাই করা হয়ে থাকলে সেখানে যাওয়ার কারণ কী? ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির উপর স্থগিতাদেশ ছিল কি না, তা-ও জানতে চায় আদালত। বন্ধ গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করা এবং বন্ড দেওয়ার পরেও নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে পর্যবেক্ষণ
শুনানির সময় ব্যারিকেড ভাঙা এবং বিক্ষোভে আরও মানুষের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, ব্যারিকেড নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। তা ভাঙলে এমন লোকজনও সেখানে জড়ো হতে পারেন, যাঁদের উপর বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে ভালমন্দ কিছু হলে কি বিক্ষোভকারীরা দায়িত্ব নিতেন?
অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত বিদেশের একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ছাত্র আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া কোনও কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো ঘটনায় পরিণত হতে পারে। পুলিশের অনুমতির উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভকারীদের আটকানো নয়, বরং অন্যদের যোগ দেওয়ার ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানোও।
আদালত আরও বলে, বিক্ষোভের জন্য দু’কিলোমিটার দূরে অন্য কোনও নির্ধারিত জায়গায় গেলে বিশেষ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। দিল্লি পুলিশ যন্তর-মন্তরের পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।
'আপনারা কি জেন-জি, না মিলেনিয়াল?'
শুনানির সময় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বয়স জানতে চায় আদালত। তাঁদের আইনজীবী জানান, সৌরভ দাসের বয়স ২৭ বছর এবং আশুতোষের ৩১ বছর। তখন বিচারপতি মন্তব্য করেন, তাঁরা জেন-জি নন, বরং মিলেনিয়াল প্রজন্মের। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটি ছাত্রদের বিক্ষোভ হিসেবে শুরু হলেও এখন বিষয়টি অন্য দিকে গিয়েছে। একই মানুষজন থাকলেও আন্দোলনের বিষয় বদলে যেতে পারে। এরপর সংগঠনটির পরিচয়, অবস্থান এবং মূল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির বক্তব্য, শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কোনও সংগঠনের পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।