সিজেপি-র অভিজিৎ দীপকে এবার ভয়ঙ্কর অভিযোগ করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি দাবি করলেন, তাঁর পিছু নিচ্ছে নম্বর প্লেটহীন গাড়ি। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ির উপর ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-এর কর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। দলের তেরঙা মিছিলের আগে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দীপকে।
বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য তিনি জেলে যেতেও প্রস্তুত।
দীপকে বলেন, 'আগামিকাল আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গিয়ে তেরঙা ওড়াব। এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা যদি এই কাজকে অপরাধ বলে মনে করি, তা হলে আপনারাই দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক।'
তিনি আরও বলেন, 'এই দেশে তেরঙা ওড়ানোর জন্য যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, তা হলেও আমরা প্রস্তুত।'
আসলে শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলের সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি। এসআইআর-এ অনিয়ম ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
বন্ধ সেন্ট্রাল পার্ক
সেন্ট্রাল পার্কেই রয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। আর বৃহস্পতিবারই নয়াদিল্লি পুর পরিষদ ঘোষণা করে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এই জায়গাটি বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দীপকে।
তিনি বলেন, 'আগামিকাল আমরা যদি বলি, ১০০টি জায়গায় তেরঙা ওড়াব, তা হলে কি আপনারা ১০০টি জায়গাই বন্ধ করে দেবেন?'
রাজনৈতিক সমাবেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। দীপকের কথায়, 'আগামিকাল যদি আমরা বলি, নরেন্দ্র মোদীর সভায় গিয়ে তেরঙা ওড়ানো হবে, তা হলে কি আপনারা সেই সভা বাতিল করে দেবেন? কী মজার ব্যাপার!'
তাঁর আরও বক্তব্য, 'সরকারিভাবে ঘোষণা করুন যে আপনারা তেরঙ্গা ওড়াবেন না। তা হলে আপনারাই বিশ্বাসঘাতক। আজ পর্যন্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী বা কোনও সরকার এমনটা করেনি।'
নজরদারি চালানোর অভিযোগ দীপকের
তাঁর উপর নজরদারি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, নম্বর প্লেটহীন গাড়ি তাঁর পিছু নিচ্ছে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ির বাইরে আইবি কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, 'দিল্লি পুলিশ আজ রাতে অথবা আগামিকাল সকালে আমাকে আটক করতে পারে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে আমি বলতে চাই, এসব করে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না।'
এই সময় সিজেপি-র দুই সহকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তিনি প্রশ্ন করেন, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী তেরঙাকে এত ঘৃণা করেন কেন? যদি তিনি তেরঙাকে ঘৃণা করেন, তা হলে কি তাঁর প্রধানমন্ত্রী থাকার যোগ্যতা রয়েছে?'