অভিজিৎ দিপকে (বাঁ দিকে), সোনম ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী (ডান দিকে)শনিবার সকাল থেকেই উত্তাল দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর। অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ২১তম দিনে জোর করে পুলিশ তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। তারপরই তাঁর জায়গায় আমরণ অনশন শুরুর ঘোষণা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
অনশন শুরু করলেন অভিজিৎ
এদিন যন্তর মন্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, '২০ তারিখ সংসদ অভিযান হবেই। নির্ধারিত সময়েই পদযাত্রা শুরু হবে। সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও আন্দোলন স্তিমিত হবে না।'
নিজে অনশন শুরু করে অভিজিৎ বলেন, 'আজ থেকে আমি অনশন শুরু করলাম। সকলের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, পিছিয়ে যাবেন না। এই আন্দোলন আরও বাড়বে। ওরা চরম ভুল করেছে। সকলে যন্তর মন্তরে আসুন। এখান থেকেই আন্দোলন চলবে। ২০ তারিখ এখান থেকেই সংসদ অভিযানে যাব আমরা।'
গর্জে উঠলেন সোনমের স্ত্রী
'আমার অনুমতি ছাড়া সোনমকে কোনওরতম তরল খাদ্য জোর করে খাওয়ানো যাবে না। আগে অনুমোদন নিতে হবে সোনমের চিকিৎসকদের।' সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী।
এক্স পোস্ট করে গীতাঞ্জলী জে আংমো বলেন, 'আমি এই মুহূর্তে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে রয়েছি। আমার অনুমতি ছাড়া ওকে মুখ দিয়ে অথবা নলের মাধ্যমে জোর করে তরল কোনও খাবার খাওয়ানো যাবে না। ওর পরিবার এবং চিকিৎসকরা নিয়মিত শারীরিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখছে। গত ২০ দিন ধরে ওর সঙ্গে রয়েছি আমরা।'
শুক্রবার অবস্থা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন শনিবার পুলিশ জোর করে সোনমকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন লাদাখের এই সমাজকর্মীর স্ত্রী। তিনি বলেন, 'গতকাল ও ভালই ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারার বিরুদ্ধ এটা।'
এদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অবিলম্বে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে সোনমের। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এক্স পোস্ট করে পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তর চত্বরে আন্দোলনকারীরা বাধা সৃষ্টি করছিল তবে কোনও বলপ্রয়োগ করা হয়নি। নিরাপদ ভাবেই নিয়ে আসা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। আন্দোলনকারীদের আর্জি জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে যন্তর মন্তর এলাকা যেন খালি করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতেই একটি মিডিয়া পোস্টে সোনম ওয়াংচুক বলেছিলেন, 'আমার শরীরের ২০ শতাংশ ওজন কমে গিয়েছে। তবে অনশন চালিয়ে যাব। ২০ তারিখ সকলে আমার সঙ্গে সংসদ অভিযানে যোগদান করুন।'