Abhijeet Dipke Released: 'আগামী ১ বছর...', দীপকেদের মুক্তি দিয়ে বড় শর্ত দিল নিম্ন আদালত

৩ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং অশুতোষ রাঙ্কাকে রবিবার সকালে সতর্কতামূলক হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তবে দেওয়া হয়েছে একটি বড় শর্ত। আগামী এক বছর তাঁরা কোনও ভাবেই শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না।

Advertisement
'আগামী ১ বছর...', দীপকেদের মুক্তি দিয়ে বড় শর্ত দিল নিম্ন আদালতঅভিজিৎ দীপকেদের মুক্তিতে বড় শর্ত
হাইলাইটস
  • এক বছর শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না
  • দীপকে সহ ৩ জন ককরোচের মুক্তিতে শর্ত
  • শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও সামিল হতে পারবেন না?

ককরোচ জনতা পার্টির ৩ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং অশুতোষ রাঙ্কাকে রবিবার সকালে সতর্কতামূলক হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তবে দেওয়া হয়েছে একটি বড় শর্ত। আগামী এক বছর তাঁরা কোনও ভাবেই শান্তি ভঙ্গ করতে পারবেন না। এই মর্মে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তিনমূর্তিকে। 

আগামী এক বছর ভাল ব্যবহার করতে হবে অভিজিৎ, আশুতোষ এবং সৌরভকে। এমনটাই জানিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তবে এ কথা স্পষ্ট নয়, তাঁরা আদৌ কোনও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলনে যোগ দিতে পারবেন কি না। 

শনিবার দিল্লিতে ল্যান্ড করার সঙ্গে সঙ্গেই ৩ ককরোচ নেতাকে ফ্লাইটের ভিতর থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। যন্তপ মন্তরে যাওয়ার আগেই তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রবিবার সকালে তাঁদের দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ACM আদালতে তোলা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ নম্বর ধারাতে তাঁদের সতর্কতামূলক হেফাজতে নিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। 

আগামী দিনে তাঁদের প্ল্যান অফ অ্যাকশন কী হতে চলেছে, তা শীঘ্রই ঘোষণা করবেন অভিজিৎ দীপকেরা। CJP তাদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে, 'অবশেষে দিল্লি পুলিশ বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিল অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে। ককরোচরা কখনও মনে না।'

এর আগে CJP-র আইনি বিষয়ক টিমের প্রধান রত্না সিং এক্স পোস্টে লেখেন, 'দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে, ৩ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে।' তিনি নিজেই আদালতে ৩ নেতার হয়ে সওয়াল করেন।

এদিকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও শনিবার মধ্যরাত ৩টে নাগাদ মুক্তি দেয় দিল্লি পুলিশ। 

কী এই প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন? 
সতর্কতামূলক হেফাজতের উদ্দেশ্য হল, কোনও ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অপরাধ করা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা থেকে আগাম আটকানো। এই ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ কোনও ব্যক্তিকে আটক করতে পারে, যাতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়। তবে এ ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি এবং প্রযোজ্য আইনি ধারাগুলি মেনে চলতে হয়।

Advertisement

আটকের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে CJP-র ৩ নেতাকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছিল। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১২৬ নম্বর ধারায় কোনও ব্যক্তিকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড জমা দিতে বলা যেতে পারে। অন্যদিকে, ১৭০ নম্বর ধারায় কোনও বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা আটকাতে পুলিশ আধিকারিকদের প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে সাধারণত উপযুক্ত বিচারবিভাগীয় অনুমোদন ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি হেফাজতে রাখা যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি বিধানগুলি মেনে চলতে হয়। দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখার ক্ষেত্রে এই নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

BNSS-এর ১৭০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি জানতে পারেন, কোনও ব্যক্তি বড় অপরাধ করার পরিকল্পনা করছেন এবং অন্য কোনওভাবে সেই অপরাধ আটকানো সম্ভব নয়, তাহলে তাঁকে প্রিভেনটিভ ডিটেইন করতে পারেন। তবে এই ধারায় আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি হেফাজতে রাখা যায় না, যদি না আইনের অন্য কোনও ধারায় আরও বেশি সময় আটকে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

ফের যন্তর মন্তরে মিছিলের ডাক CJP-র
দলের শীর্ষ নেতাদের আটকের পর রবিবার সকাল ১০টায় ফের যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
শনিবার রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি পুলিশ। প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি আটকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে আন্দোলনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

শনিবার ৩ হাজারের বেশি মানুষকে আটক
শনিবার দিল্লিজুড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভ কর্মসূচি আটকাতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। এর মধ্যে যন্তর মন্তর সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ছিলেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড, চেকপয়েন্ট এবং আটক কেন্দ্র তৈরি করা হয়। পাশাপাশি বাড়ানো হয় নজরদারি।

নিরাপত্তার এই ব্যাপক ব্যবস্থার প্রভাব পড়ে রাজধানীর গণপরিবহণ ও সাধারণ যান চলাচলে। বন্ধ রাখা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন। বাতিল করা হয় ট্রেন পরিষেবাও। জনপথ-কর্তব্যপথ এলাকার ৪ কিলোমিটারের মধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। দিল্লি-নয়ডা সীমান্তেও জারি করা হয় বিধিনিষেধ এবং বাড়ানো হয় নিরাপত্তা পরীক্ষা।

 

POST A COMMENT
Advertisement