Saurav Das Ashutosh Ranka Release: যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করবেন না, CJP-র সৌরভ, রাঙ্কার মুক্তিতে আর কী কী শর্ত?

আলাদা আলাদা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত সহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। এছাড়া যন্তর মন্তরকে যত দিন প্রতিবাদস্থলের তালিকার বাইরে রাখা হবে, তত দিন সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। 

Advertisement
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করবেন না, CJP-র সৌরভ, রাঙ্কার মুক্তিতে আর কী কী শর্ত?সিজেপি-র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মুক্তি
হাইলাইটস
  • আলাদা আলাদা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা
  • তাঁরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
  • আদালত সহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা বুধবার তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন তাঁরা। এরপরই তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম)।

অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ ঋতু রাজ এসইএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পুলিশের তরফে দুই সিজেপি নেতার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা মোকাবিলায় বন্ড এবং লিখিত আশ্বাসই যথেষ্ট।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দু'জনেই ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সিওরিটিস জমা দেন। তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান। সেই সঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদন প্রত্যাহার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পান তাঁরা।

কী কী শর্তে মুক্তি দেওয়া হল তাঁদের?
আলাদা আলাদা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত সহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

এছাড়া যন্তর মন্তরকে যত দিন প্রতিবাদস্থলের তালিকার বাইরে রাখা হবে, তত দিন সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। 

তাঁরা আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি হলে, সেটা সংবিধানের কাঠামো মেনেই করা হবে।

এই আশ্বাসের পরই তাঁদের আর বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই বলে জানায় আদালত। তবে প্রত্যেকটি শুনানিতে দুই নেতাকে উপস্থিত থাকতে হবে। তাঁদের জমা দেওয়া বন্ড ও মুচলেকার শর্ত মেনে চলতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। 

আগামী ২৩ অক্টোবর দুপুর ৩টের সময় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। ওই দিন দুই নেতা এবং তাঁদের জামিনদারদের উপস্থিত থাকতে হবে। 

কেন আরও হেফাজত চেয়েছিল পুলিশ?
পুলিশের মতে, এখনও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। এই যুক্তিতে দুই নেতার হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ। তাদের অভিযোগ, আদালতে দেওয়া বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে তাঁদের মন্তব্য এবং লিখিত জবাবের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

Advertisement

মুক্তিতে খুশি সিজেপি, স্বাগত কেজরিওয়ালেরও
দুই নেতার মুক্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সিজেপি লিগাল সেলের প্রধান রত্না সিং। তবে তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

বিষয়টা নিয়ে উচ্ছ্বসিত সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ 'চক দে ইন্ডিয়া' ছবিতে শাহরুখ খানের চোখে জল থাকা একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ও দিকে দুই নেতার মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তাঁর মতে, গোটা দেশ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে রয়েছে।

কেন আটক হয়েছিলেন সিজেপি-র দুই নেতা?
গত ১০ অক্টোবর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথমবার আটক করা হয় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়।

এরপর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ বিএনএসএস-এর ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় প্রতিরোধমূলক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। শান্তি বজায় রাখার জন্য ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেন তাঁরা। তারপর ওই দিনই মুক্তি পান।

কিন্তু ১৪ অক্টোবর তেরঙা মিছিলের সময় যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং আগের বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের তাঁদের আটক করা হয়।

প্রথমে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১৯ অক্টোবর আরও দু'দিন হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

সেই নির্দেশে এসইএস জানিয়েছিলেন, দুই নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের বন্ডের শর্ত ভেঙেছেন। এরপর বুধবার মুক্তি পেলেন দুই সিজেপি নেতা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement