
মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার সময় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলের শৌচাগারে এক নাবালিকা ছাত্রী সন্তানের জন্ম দেয়। ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে মা ও নবজাতককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে দু’জনের অবস্থাই স্থিতিশীল।
ধর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পারুল বেলাপুরকর জানান, ওই ছাত্রী একটি বেসরকারি স্কুলে অঙ্কের পরীক্ষা দিচ্ছিল। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর সে তীব্র পেটব্যথার অভিযোগ করে এবং শৌচাগারে যাওয়ার অনুমতি চায়। কিছুক্ষণ পর শৌচাগার থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ ভেসে আসে। স্কুলের মহিলা কর্মীরা ছুটে গিয়ে দেখেন, ছাত্রীটি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। মা ও শিশুকে নিকটবর্তী কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, প্রায় ৩৪ সপ্তাহে অর্থাৎ আট মাসে শিশুটির জন্ম হয়েছে। এটিকে অকাল প্রসব বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে মা ও শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ছাত্রীর বাগদান হয়েছিল এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। তবে ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছে, নবজাতকের বাবা তার বাগদত্তা নন, বরং তার প্রেমিক। ২০২৪ সালে একটি গরবা অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয় হয়। এবং পরবর্তীতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে তাদের যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছে ছাত্রীটি।
ছাত্রীর বাবা-মা দাবি করেছেন, মেয়ের গর্ভাবস্থা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। যেহেতু ছাত্রীটি নাবালিকা, তাই পুলিশ পকসো আইনের অধীনে একটি শূন্য এফআইআর দায়ের করেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর মামলাটি ইন্দোর জেলার বেতমা থানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।