তেলাপোকা জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ, কয়েক দিনের মধ্যেই দুই টিএমসি সাংসদকে নিল দলে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। ‘Secular, Socialist, Democratic, Lazy’; এই অদ্ভুত স্লোগান নিয়েই বাজারে এল ‘Cockroach Janta Party’ বা CJP। আর আত্মপ্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই দলের সঙ্গে নাম জড়াল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের।
নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘যুবদের জন্য, যুবদের দ্বারা, যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ’ হিসেবে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সদস্য সংগ্রহ অভিযানও শুরু করেছে তারা। দাবি, মাত্র দু’দিনে ৪০ হাজারের বেশি সদস্য জুটে গিয়েছে। রাজনৈতিক হতাশা, বেকারত্ব, সিস্টেমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ; সব মিলিয়েই নিজেদের ‘অসন্তুষ্ট যুব সমাজের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে CJP।
এই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি আগে Arvind Kejriwal-এর দল Aam Aadmi Party-র হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজে যুক্ত ছিলেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা ভোটের সময়ও তিনি AAP-র ডিজিটাল প্রচার টিমে কাজ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলের দুই সাংসদের প্রতিক্রিয়া ঘিরে। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র CJP-র একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, তিনিও এই দলে যোগ দিতে চান। তাঁর কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য, 'Anti-National Party'-র সদস্য হওয়ার পাশাপাশি এই দলেও থাকতে চান তিনি। এর পরেই CJP-র এক্স হ্যান্ডল থেকে জবাব আসে, 'গণতন্ত্রের যে যোদ্ধাকে প্রয়োজন, আপনি সেই মানুষ। আপনাকে স্বাগত।'
অন্য দিকে বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ জানতে চান, এই দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা কী? তার উত্তরে CJP-র তরফে বলা হয়, '১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জেতাই যথেষ্ট যোগ্যতা।'
কিন্তু হঠাৎ ‘Cockroach’ নাম কেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি Surya Kant-এর একটি মন্তব্যকে ঘিরেই এই নামের জন্ম। অভিযোগ, তিনি সাংবাদিকতা, আইন বা RTI আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বেকার যুবকদের ‘cockroach’ এবং ‘parasite’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও পরে স্পষ্ট করা হয়, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং তৈরি করেছে CJP।
এমনকি ইতিমধ্যেই AI-তৈরি দলীয় সংগীতও প্রকাশ করেছে তারা। সেখানে শোনা যাচ্ছে, 'We are Cockroach Party, we are children of a burning city...'। পাশাপাশি খুব শীঘ্রই প্রথম ভার্চুয়াল ‘Gen Z Convention’ আয়োজনের ঘোষণাও করেছে দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের আহ্বান জানিয়ে তারা লিখেছে, 'যদি আপনি Gen Z হন এবং এই কনভেনশনের অংশ হতে চান, তবে DM করুন।'
দলের সদস্য হওয়ার ‘যোগ্যতা’ নিয়েও চলছে ব্যঙ্গ। CJP-র দাবি, সদস্য হতে গেলে ‘বেকার’, ‘অলস’, ‘সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা’ এবং ‘পেশাদার ভাবে অভিযোগ করার ক্ষমতা’ থাকতে হবে। যদিও ব্যঙ্গের আড়ালেই তারা সংবিধান রক্ষার কথা বলছে। তাদের দাবি, প্রতিটি মোবাইল ফোন এখন প্রতিবাদের অস্ত্র।
শুধু মিম বা ঠাট্টা নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হয়েছে CJP। NEET এবং CBSE পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ছাত্রদের পাশে থাকার দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে CBSE-র রি-চেকিং ফি বাতিলের দাবিও জানিয়েছে।
দলের পাঁচ দফা ইস্তাহারেও রয়েছে একাধিক বিতর্কিত ও ব্যঙ্গাত্মক প্রস্তাব। অবসর নেওয়ার পরে কোনও প্রধান বিচারপতিকে রাজ্যসভায় পাঠানো যাবে না; এই দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোট মুছে দিলে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিও তুলেছে তারা।
সমাজকর্মী Anjali Bhardwaj আরও কিছু প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, দলকে RTI আইনের আওতায় আনতে হবে। গোপন অনুদান নেওয়া যাবে না। এমনকি কোনও ‘Cockroach CARES Fund’ও তৈরি করা চলবে না। CJP জানিয়েছে, এই সব প্রস্তাবই গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই দল আদৌ ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, যুব সমাজের হতাশা এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের মিশেলে ‘Cockroach Janta Party’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।