
'পিকচার অভি বাকি হ্যায়...'। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শূন্য কটাক্ষের পরই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বিধান পরিষদের আসন জিতল কংগ্রেস। সার্বিকভাবে ২৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের এটিই একমাত্র জয়। তবে সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আসনটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের গড় নাগপুরে। তা ছাড়াও এটি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের নিজের এলাকা। আবার কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি ওই কেন্দ্রেরই সাংসদ।
৪ রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদের আসনে ভোটগণনা চলাকালীনই বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে নিয়ে রীতিমতো রসিকতা শুরু করেন। বুধবার রাত পর্যন্ত ২৮ আসনে কংগ্রেসের ঝুলি ছিল শূন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নাম না করেই রাহুল গান্ধীকে খোঁচা দিয়ে তিনি লেখেন, 'ভোট তো ব্যালটে হয়েছিল, ক'টা আসন জিতলেন?' রীতিমতো হাসিঠাট্টা শুরু করেন BJP-র অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরাও।
বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগণনা শেষ হতে 'কাহানি মে টুইস্ট' চলে আসে। খাস নাগপুরের গ্র্যাজুয়েটস আসনটিতে কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াঞ্জারি BJP-র সুধাকর কোলেকে ৩ হাজার ২৭১ ভোটে হারিয়ে দেন। RSS-এর খাসতালুকে BJP-র এই হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তা ছাড়াও সার্বিকভাবে মহারাষ্ট্রে খারাপ ফলাফল করেছে BJP। ৫ আসনের মধ্যে দুটি জিতেছে শাসক জোট। বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি জিতেছে ৩ আসন।
তবে এই নির্বাচনকে ৪ রাজ্যের সামগ্রিক জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায় না। কারণ, বিধান পরিষদের কেন্দ্রগুলিতে ভোটাধিকার থাকে নির্দিষ্ট পেশার নথিভুক্ত ভোটারদের। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং সাংগঠনিক শক্তি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তা সত্ত্বেও ২৮টি আসনের মাত্র একটিতে জয় নিঃসন্দেহে হাত শিবিরের কাছে পর্যালোচনার।
কর্নাটকের ফলাফল কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের। কারণ, এখানে বিরোধী দল হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতাসীন দল হিসেবেই নির্বাচনে লড়েছিল কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের ফল আশানুরূপ হয়নি। তবে ৩ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলাদা। সেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। আঞ্চলিক দল, জোটের সমীকরণ এবং স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আবার বিহারে ৮টি আসনের নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে বিভক্ত ফলাফল সামনে এসেছে।