সনিয়া কেমন আছেন?দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। আর তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা সনিয়া পুত্র রাহুল গান্ধী।
এমন পরিস্থিতিতে সনিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, কেমন আছেন কংগ্রেস নেত্রী? তার উত্তরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, 'মঙ্গলবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে সনিয়া গান্ধীকে গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আপাতত স্থিতিশীল। ডাক্তার তাঁর পরীক্ষা করছেন। দেখা হচ্ছে পেটে বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনও ইনফেকশন রয়েছে কি না। একদল চিকিৎসক তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে।'
বুধবার থেকেই বাড়তে থাকে চিন্তা
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন সনিয়া। আর বুধবার সকালে সেই খবর জানাজানি হয়। তারপর কংগ্রেস সমর্থকদের একাংশের মধ্যে চিন্তা বাড়তে থাকে।
প্রথমে জানা গিয়েছিল, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন সনিয়া। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও পরে জানা যায়, বিষয়টা ঠিক এমন নয়। তাঁকে অন্য কোনও সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সনিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ তাঁর শরীরে যে কোনও ইনফেকশন রয়েছে, এটা পরিষ্কার। তবে কী ধরনের সংক্রমণ রয়েছে, সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।
এই বছরের শুরুতেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতেই সনিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে খবর। সেই সময়ও তাঁকে গঙ্গারাম হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। তখন চিকিৎসকেরা দাবি করেছিলেন যে দিল্লির ঠান্ডা বাতাস এবং বায়ু দূষণের জেরে তাঁর ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার সমস্যা অনেকটাই বেড়েছে। তাই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। সেই মতো তাঁকে চিকিৎসা করা হয়। তিনি সেরে ওঠেন।। কিন্তু আবার মার্চ মাসেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল।
মাখায় রাখতে হবে, এখন সনিয়ার বয়স ৭৯। তিনি রাজস্থান থেকে কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সদস্য। আর সংসদের উচ্চ কক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার আগে তিনি ৫ বারের জন্য লোকসভার এমপি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।
এমনকী কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি রেকর্ড সময় দায়িত্ব সামলেছেন সনিয়া। তিনি পরপর ১০ বছর কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালে অবশ্য সনিয়া সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তারপর দায়িত্ব নেন রাহুল। যদিও ২০১৯-এর পর রাহুল পদত্যাগ করেন। তখন আবার অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট হন সনিয়া। তাই এটা সহজেই অনুমেয় যে জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ তিনি। তাই তাঁর স্বাস্থ্যের খবর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।