চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা (ছবি: গেটি ইমেজেস)ধান পাকার সময়ই বৃষ্টির ঘাটতি। যার জেরে ভারতে ধানের উৎপাদন কমতে পারে। এমনকী দেশে চালের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন শিল্পমহলের কর্মকর্তারা। এমনটাই দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। তবে ভাল খবর হল, পরপর কয়েকবার রেকর্ড ফলন হয়েছে। যার জেরে বিপুল চাল মজুত রয়েছে। এই কারণে ভারত চাল রফতানি চালিয়ে যেতে পারবে।
১ কোটি মেট্রিক টন কমতে পারে চালের উৎপাদন
মাথায় রাখতে হবে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ হল ভারত। আর আমাদের দেশেই চলতি বছরে কমতে পারে চালের উৎপাদন। শিল্পমহলের কর্মকর্তাদের মতে, এ বছর দেশে চালের উৎপাদন প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন কমতে পারে।
আসলে গত বছর, গত বছর রেকর্ড ১৫৪ মিলিয়ন টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। সেই তুলনায় প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমতে পারে উৎপাদন। আর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ২০০৯-১০ সালের পর এটাই হতে পারে দেশে চালের উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন। সেই বছরও এল নিনোর জন্য ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছে রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিভি কৃষ্ণ রাও। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি বেশ কিছু সপ্তাহ দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া রয়েছে। যার জন্য দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ধানের স্বাভাবিক ফলন কমতে পারে।
বাড়তে পারে চালের দাম?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চাল উৎপাদন কমলে দেশের বাজারে চালের দাম বাড়তে পারে। এমনকী চাল রফতানির ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। সেটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
আর খারাপ খবর হল, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চাল রফতানিকারক দেশেও ইতিমধ্যে চালের দাম বাড়ছে। এবার সেই লিস্টে জুড়ে গেল ভারতও।
বৃষ্টির ঘাটতিই বিপদ
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে বর্ষার ইনিংস। আর এই মরসুমে এখনও পর্যন্ত ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে ধান উৎপাদনকারী কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি আরও বেশি। কোথাও কোথাও সেটা ৪২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ধান চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ছিল ৪২.৬৮ মিলিয়ন হেক্টর। আর এটা এক বছর আগের হিসেবের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম।
মাথায় রাখতে হবে, ভারতের মোট চাল উৎপাদনের ৮০ শতাংশ বা তার বেশি আসে গ্রীষ্মকালীন ধান চাষ থেকে। বাদবাকি শীতকালের সময় ধান চাষ থেকে আসে।
আর বিপদ হল, বৃষ্টি কম হওয়ায় জলাধারগুলিতে জলের অভাব থাকতে পারে। যার জন্য শীতকালেও চাল উৎপাদন কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ওলাম এগ্রি ইন্ডিয়ার ডেপুটি কান্ট্রি হেড নীতিন গুপ্ত।
চালের দাম ও রফতানিতে চাপ
চালের উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে দাম। এমনকী চাল রফতানির ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। ভারতীয় চালের রফতানি মূল্য এক বছরেরও মধ্যে রেকর্ড করেছে।
যদিও উৎপাদন কমলেও বিপুল মজুত রয়েছে চাল। যার জন্য রফতানিতে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।