আত্মসমর্পণ করেছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা দেবজি।Maoist Leader Surrender: নকশাল দমনে বড় সাফল্য। সূত্রের খবর, আত্মসমর্পণ করেছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা দেবজি। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনী এই নকশাল নেতার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। তবে এবার দেবজি নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন।
দক্ষিণ ভারতের নকশাল আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন দেবজি। সূত্রের খবর, CPI (Maoist)-এর সাধারণ সম্পাদক টিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি নাকি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। জানা গিয়েছে, তেলঙ্গানার মুলুগু জেলায় আত্মসমর্পণ করেছেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। যদিও তেলঙ্গানা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই আত্মসমর্পণের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্রের দাবি, দেবজি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিলেন। তাঁর খোঁজ পেতে তেলঙ্গানা সরকার ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। দেবজি আদতে করিমনগর জেলার বাসিন্দা। মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে তাঁর উত্থানও খুব সাম্প্রতিক। মাত্র আট মাস আগেই তাঁকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সংগঠনের শীর্ষ নেতা নম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসভারাজু নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই সংগঠনের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটেই দেবজির আত্মসমর্পণের খবর। এটি মাওবাদী সংগঠনের ভিতরে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু দেবজি নন, সূত্রের খবর তাঁর সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন সশস্ত্র মাওবাদী ক্যাডারও আত্মসমর্পণ করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশে মাওবাদী হিংসা সম্পূর্ণ নির্মূল করার টার্গেট স্থির করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে দেশজুড়ে মাওবাদী বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন কাগার'। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। আর সেই অভিযানের চাপেই ক্রমেই আত্মসমর্পণ করছেন একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দেবজির আত্মসমর্পণের খবর আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত হয়, তবে তা মাওবাদী আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে এই ধরনের পরিবর্তন মাওবাদী কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে।