
আগামী লোকসভা নির্বাচনে যদি বিরোধীরা জেতে, তবে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানাতে পারেন। এমনটাই মন্তব্য করেছেন CPIM-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। তিনি বলেন, 'সাধারণত বিরোধী দলনেতার এই দাবি থাকা উচিত। তবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা আমরা ভোটের পর আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।'
বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তবেই সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এমএ বেবি মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যথেষ্ট পরিণত এবং তারা একজোট হয়েই সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
এমএ বেবির কথায়, 'যদি বিরোধীরা জিতে যায় তাহলে ভোটের পর আলোচনা করা হবে কে প্রধানমন্ত্রী হবে।' CPIM-এর পূর্ব অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে এমএ বেবি জানান, ১৯৯৬ সালে ইউনাইটেড ফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জেতার পর আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া উচিত কি না। তিনি বলেন, 'আমরা কোনও দাবি করব না। এই শক্তিতে দাবি করা অযৌক্তিক। ফলত সাধারণ ভাবেই বিরোধী দলনেতা যিনি রয়েছেন, তিনিই সেই দাবি জানাতে পারেন।'
তবে এখনই CPIM নেতৃত্ব নিয়ে কোনও অহেতুক জল্পনার মধ্যে যেতে চায় না বলে জানিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরির এই উত্তরসূরী। এমএ বেবির বক্তব্য, 'কোনও হাইপোথেসিসে আমরা এখনই যেতে চাই না।'
ইতিমধ্যেই অভিনেতা থেকে তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠা TVK প্রধান থলপতি বিজয়কে নিয়েও নানা জল্পনা চলছে। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে প্রজেক্টও করা হচ্ছে নানামহলে। সে প্রসঙ্গে এমএ বেবি বলেন, 'আমি জানি তামিলনাড়ুতে জোসেফ বিজয়ের নাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। সেটা একটা সম্পূর্ণ অন্য আলোচনা। ওই বিতর্কে আমি ঢুকতে চাই না।' তাঁর মতে, এখন বিরোধীদের মূল ফোকাস হওয়া উচিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন নিশ্চিত করা। ভোটের ফল বেরলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা করার সময় থাকবে বলেই মনে করছেন CPIM-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।