সাইক্লোন অর্ণবের সত্যিটা জানুন।২০২৬ সাল নাকি সুপার এল নিনোর বছর। মেঘ থাকবে না আকাশে। গরমে হাঁসফাঁস করতে হবে। এমন কথাই শুনতে শুনতে অক্টোবর চলে এল। আর বর্ষাও বিদায়ের মুখে। তবে হ্যাঁ ভ্যাপসা গরম এবার নাজেহাল করেছে। তখন মনে হচ্ছিল, কবে যে এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিদায় নেবে। এল সেপ্টেম্বর। প্রবল বৃষ্টি। জলমগ্ন হয়ে গেল বিস্তীর্ণ এলাকা। কিন্তু আচমকা বৃষ্টির এমন দাপট কেন? এর নেপথ্যে কি সত্যিই 'অর্ণব' নামের কোনও ঘূর্ণিঝড় ছিল?
সেপ্টেম্বর মাস সাধারণত বর্ষা বিদায়ের শেষ সময়। জুন থেকে অগাস্টের মধ্যেই দেশের বেশিরভাগ জায়গায় বর্ষার বৃষ্টি হয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের দিকে মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টির পরিমাণও কমতে থাকে। আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থাকে। তবে এই সময়ে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা থাকে। কেন? আসলে এই অঞ্চলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। জল গরম হলে উষ্ণ বাতাস উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে নীচের দিকে তৈরি হয় নিম্নচাপের অঞ্চল। উপরে উঠে যাওয়া এই বাতাসের সঙ্গে থাকে প্রচুর জলীয় বাষ্প। এবার মনে রাখতে হবে, পৃথিবী নিজেও ঘুরছে। ফলে উপরে উঠে যাওয়া বাতাস সোজা পথে না গিয়ে ঘুরতে শুরু করে। সেই ঘূর্ণনের শক্তি যথেষ্ট হলে বাতাস আরও উপরে উঠতে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত বেশি জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে, ততই শক্তিশালী হয় এই সিস্টেম। এই গোটা প্রক্রিয়াই শেষপর্যন্ত রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। 'পারে' কথাটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে, এমনটা নয়।
নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় কীভাবে?
ভূপৃষ্ঠের কাছে কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হলে সেটি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা বোঝার জন্য ভারতের মৌসম বিভাগ একটি মাপদণ্ড রেখেছে। কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হলে তার আশপাশে বায়ুচাপের পার্থক্য বাড়ে, বাতাসের গতিও তত বাড়তে থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, কোনও একটি এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার পথে দুটি বিন্দুর মধ্যে বায়ুচাপের পার্থক্য যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে বাতাসের গতিও বাড়ে। বাতাসের স্থায়ী গতির ভিত্তিতে প্রথমে তৈরি হয় নিম্নচাপ এলাকা, তারপর নিম্নচাপ, তারপর গভীর নিম্নচাপ। শেষপর্যন্ত তা শক্তিশালী হলে পরিণত হয় ঘূর্ণিঝড়ে।
ঘূর্ণিঝড় কে বলল?
না। সেপ্টেম্বরের শেষে যে সিস্টেম তৈরি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে সেটা আদৌ ঘূর্ণিঝড় ছিল না। তা ছিল গভীর নিম্নচাপ। ভারতের মৌসম ভবনও সেটাই বলেছিল। তাহলে কেন লোকে সাইক্লোন বলছিল? আসলে উত্তর ভারতে একই সময় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় ছিল। দুইয়ের প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার সেই সময় উত্তর-পূর্ব ভারত, অসম, মায়ানমার এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছিল একটি ঘূর্ণাবর্ত। সেখানকার বাতাস ঘূর্ণিঝড়ের মতো আবর্তিত হতে শুরু করে। এই সাইক্লোনিক শব্দটি ধরে দুইয়ে দুইয়ে চার করে নেয় লোকে। অনেকেই ভাবেন, এটাই সাইক্লোন অর্ণব।
অর্ণব নামটি এল কোথা থেকে?
মৌসম ভবন যখন কোনও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসই দেয়নি, তখন সেই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণই বা হবে কী করে? উত্তর ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলির নাম আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। মোট ১৩টি দেশ নির্দিষ্ট একটি ক্রম অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়। সেই তালিকায় পরবর্তী নাম অর্ণব। যেটি দিয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু এখনও সেই নাম কোনও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি।