Cyclone Murasu: 'অর্ণব' যেতে না যেতেই ধেয়ে আসছে 'মুরাসু', কবে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়?

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে। রবিবারই তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। কবে, কোথায় আছড়ে পড়বে?

Advertisement
 'অর্ণব' যেতে না যেতেই ধেয়ে আসছে 'মুরাসু', কবে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়?সাইক্লোন 'মুরাসু'
হাইলাইটস
  • আরও এক ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে
  • রবিবারই তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'
  • কবে, কোথায় আছড়ে পড়বে?

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে IMD। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘মুরাসু’। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর সকালে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ওয়েদার সিস্টেমের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, রায়ালসীমা এবং ওড়িশার একাধিক এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে ‘মুরাসু’ হবে চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। এর আগে গত সপ্তাহেই পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। ভারতই ‘মুরুসু’ নামটি দিয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় 'মুরাসু'-র তীব্রতা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, 'অর্ণব'-এর সময়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছিল।

কোন কোন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ ও ৩ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশায় ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ভারতের সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর। আগামী বুধবার দুপুর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

IMD-র ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্য অংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতি মাছ ধরার নৌকা এবং ছোট জাহাজের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এখনও 'অর্ণব'-এর ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটেনি
নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার মধ্যেই কয়েক দিন আগে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর ক্ষয়ক্ষতির ছবিও এখনও টাটকা। গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছিল 'অর্ণব'। ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের কারণে সেটিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তকমা দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর।

'অর্ণব'-এর প্রভাবে একাধিক এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়িঘর, উপড়ে পড়ে বহু গাছ। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা মিলিয়ে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধির খবরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্ণবের ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই ফের প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার মুখে পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি।

নভেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস
পরপর ২টি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও নভেম্বর মাসে দেশের অধিকাংশ জায়গাতেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণ উপদ্বীপীয় ভারতে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৭৭ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ বাদে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

পাশাপাশি দেশের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হিমালয়ের পাদদেশ এবং মধ্য ও পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় এর ব্যতিক্রম হতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত, শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল (IOD) নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকতে পারে।

এদিকে দিল্লি ও পঞ্জাব-সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে আপাতত মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা। সেখানে তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ অংশেই মূলত বৃষ্টির কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement