Defence Facts: সমুদ্রের প্রহরী INS বিক্রান্ত: দেশের গর্ব, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিস্ময়

INS Vikrant India Aircraft Carrier: ১৮ তলা উঁচু। তার উপর ২৬২ মিটার লম্বা রানওয়ে। সার সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ৩০-৩৫টি যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার। আর সেটাই ভেসে বেড়াচ্ছে ভারতের সমুদ্রে। ভাবতেই অবাক লাগছে, তাই না?

Advertisement
সমুদ্রের প্রহরী INS বিক্রান্ত: দেশের গর্ব, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিস্ময় ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় আইএনএস বিক্রান্ত।
হাইলাইটস
  • ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় আইএনএস বিক্রান্ত।
  • প্রায় ১৮ তলা সমান উচ্চতা, ২৬২ মিটার লম্বা।
  • এতে একসঙ্গে প্রায় ৩০-৩৬টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রাখা যায়।

INS Vikrant India Aircraft Carrier: ১৮ তলা উঁচু। তার উপর ২৬২ মিটার লম্বা রানওয়ে। সার সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ৩০-৩৫টি যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার। আর সেটাই ভেসে বেড়াচ্ছে ভারতের সমুদ্রে। ভাবতেই অবাক লাগছে, তাই না? আসলে এমনই ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় আইএনএস বিক্রান্ত। ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। বিশাখাপত্তনমে আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ-তে (International Fleet Review) এই যুদ্ধজাহাজই হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ।

১৮ তলা সমান বিশাল যুদ্ধজাহাজ!
এই বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) যেন একটি ভাসমান শহর। প্রায় ১৮ তলা সমান উচ্চতা, ২৬২ মিটার লম্বা। একসঙ্গে প্রায় ১৬০০-১৭০০ জন নাবিক থাকতে পারেন। শুধু তাই নয়, জাহাজে বিপুল জ্বালানি মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে। মাসের পর মাস একটানা সমুদ্রে অভিযান চালাতে পারে INS বিক্রান্ত।

একসঙ্গে ৩৬টি যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার নিয়ে সমুদ্রে ঘুরতে পারে INS বিক্রান্ত।
একসঙ্গে ৩৬টি যুদ্ধবিমান-হেলিকপ্টার নিয়ে সমুদ্রে ঘুরতে পারে INS বিক্রান্ত।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য
না, আমেরিকা বা রাশিয়ার থেকে কেনা নয়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। কোচিন শিপইয়ার্ডে (Cochin Shipyard) বহু বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই জাহাজ। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এর নামের পিছনেও রয়েছে ইতিহাস। ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরীর নামও ছিল 'বিক্রান্ত'। তার নামেই এর নামকরণ। সেই পুরনো বিক্রান্ত ১৯৭১ সালের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। নতুন বিক্রান্ত সেই ঐতিহ্যই বহন করছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা শক্তিশালী?
এই জাহাজ শুধু বড় নয়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এতে একসঙ্গে প্রায় ৩০-৩৬টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রাখা যায়। মিগ-২৯কে (MiG-29K) যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার; সবই এই জাহাজ থেকে উড়তে পারে। অর্থাৎ, এখান থেকেই যে কোনও শত্রুঘাঁটির উদ্দেশে এখান থেকে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার রওনা দিতে পারে। 

জাহাজে রয়েছে শক্তিশালী রাডার, মিসাইল সিস্টেম এবং আধুনিক কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। ফলে শত্রুর গতিবিধি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব।

ভিতরে রয়েছে হাসপাতালও!
আইএনএস বিক্রান্তের মধ্যে সম্পূর্ণ হাসপাতালও রয়েছে। অত্যাধুনিক ফায়ার সেফটি ও ফ্লাড কন্ট্রোল সিস্টেম রয়েছে। রয়েছে বিশাল প্যান্ট্রি সিস্টেম। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকলেও কোনও সমস্যা হয় না।
খরচ হয়েছে প্রায় ২৩,০০০ কোটি টাকা
১৯৯৯ সালে এই প্রকল্পের প্ল্যানিং শুরু হয়। ২০০৯ সালে নির্মাণ কাজ শুরু। ২০১৩ সালে জলে নামানো হয়। এরপর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২২ সালে এটি পুরোপুরি চালু হয়।

Advertisement

এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ২৩,০০০ কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা এতে অংশ নেয়। এতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের স্টিলও ভারতেই তৈরি হয়েছে।

ভারতের নিরাপত্তায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রান্ত 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে (Indian Ocean Region) নিজের শক্তি বাড়াতে এই ধরনের বিমানবাহী জাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্রান্ত শুধুমাত্র জাহাজ ভাবলে ভুল করবেন। কারণ এটি রীতিমতো একটি যুদ্ধবাহিনী। যুদ্ধ, নজরদারি, উদ্ধারকাজ; সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা যায়।

এমন আরও একটি আছে
বর্তমানে ভারতের কাছে দুটি সক্রিয় বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। বিক্রান্ত এবং বিক্রমাদিত্য। আরও একটি শীঘ্রই কমিশনড হবে। 

সবশেষে এটাই বলা যায়, আইএনএস বিক্রান্ত শুধু যুদ্ধজাহাজ নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তি, আত্মনির্ভরতা (Atmanirbhar Bharat) এবং সামরিক শক্তির প্রতীক। 

POST A COMMENT
Advertisement