রাহুল গান্ধীকে আটক করছে পুলিশ রাজধানী দিল্লির আন্দোলনে নয়া মোড়। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে জোর করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। রাহুলের পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতাদেরও বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। এখনও মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
কর্নাটক ও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী-সহ কংগ্রেসের অন্য নেতাদের নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টা নাগাদ বিক্ষোভ শুরু করেন রাহুল। আগের দিন আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল। পুলিশ বিক্ষোভস্থলে পৌঁছলে লোকসভার বিরোধী দলনেতামাটিতে শুয়ে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় তিনি চোটও পান বলে অভিযোগ।
মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, 'এই মুহূর্তে ভারতে গণতন্ত্রের কী অবস্থা, সেটাই আপনারা দেখছেন।' ওই কংগ্রেস নেতার এক সহযোগীর দাবি, রাহুলের চোখের নীচে আঘাত লেগেছে।
কেন রাহুলদের সেখান থেকে জোরপূর্বক তুলে দেওয়া হল সেই নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও সরকারের অবস্থান সূত্র মারফত মিলেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বিক্ষোভ গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ এবং বিরোধীরা ভুল ও বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত বা সরকারি বাসভবনকে ঘিরে বিক্ষোভ পরিণত গণতন্ত্রে দেখা যায় না।
সরকারি সূত্রের আরও বক্তব্য, 'প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে কংগ্রেস অত্যন্ত ভুল ও বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। এটি শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ কোনও পরিণত গণতন্ত্রে দেখা যায় না। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতে নেতাদের বাসভবন লক্ষ্য করে বিক্ষোভের কী পরিণতি হয়েছে, সেটাও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।'
এই মন্তব্যে মূলত বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীরা গণভবনে ঢুকে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের একাধিক সরকারি বাসভবনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।
এদিকে এদিন সন্ধেবেলা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবকে আলাদা আলাদা বাসে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। রাহুলকে মডেল টাউন থানায় এবং প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কংগ্রেস নেতাদের আটক করার পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সমাজমাধ্যমে লেখেন,'স্বৈরাচারী সরকার ভয়ে কাঁপছে। আগে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, কোটি কোটি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে, ১৫০-রও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, ২৫ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। ছাত্ররা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামলে তাদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। সংসদের দরজা বন্ধ করে সাংসদদের আটকে রাখা হয়েছে, বিরোধীদের আলোচনার দাবি মানা হয়নি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়নি। ছাত্রদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছেন এবং দিল্লি পুলিশের দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কোনও বক্তব্য দেননি। এখন কংগ্রেস ও বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসলে তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।'