দিল্লির সেই হোটেলের অবস্থা দিল্লির মালব্যনগরের হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ওই হোটেল মালিকের নাম লোকেশ বাজাজ। তাঁর নামে একাধিক হোটেল রয়েছে। তবে সে এখনও পলাতক। খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনায় মৃত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক। তাঁদের বাড়ি নাইজেরিরা, লাইবেরিয়া ও বাংলাদেশে। গুরুতর আহতদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রাণে বাঁচতে দুই মহিলা উপর থেকে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা এখন কেমন, সেই সম্পর্কে তথ্য মেলেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর যখন সেই বহুতলের উপরের আবাসিকরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছিলেন তখনই নিচে মোটা মোটা গদি পাতা হয়েছিল। যাতে কেউ ঝাঁপ দিলে যেন আঘাত কম পান।
ওই হোটেলটি প্রয়োজনীয় NOC পেয়েছিলেন কি না সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, হোটেলটিকে মাত্র ছয়টি রুমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বেআইনিভাবে ২৫টি রুম চালানো হচ্ছিল। যার মধ্যে কিছু বেসমেন্টেও ছিল। সূত্রের খবর, বেসমেন্ট থেকে অন্তত তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না হোটেলের। ওই হোটেলে প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। সেটাও আইনবিরুদ্ধ।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান জানিয়েছেন, হোটেলটির কাছে কোনও ফায়ার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) ছিল না। তাঁর মতে, ভবনটির কাঠামো এমন ছিল যে বর্তমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সেটি ফায়ার এনওসি পাওয়ার যোগ্যই ছিল না। পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি হোটেলেও ফায়ার এনওসি নেই বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
হোটেলের রাঁধুনি কেসর সিংহ জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় তিনি রান্নাঘরে ঢোকেন। বৈদ্যুতিক স্টোভ জ্বালাতে সুইচ অন করেন। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহকর্মীকে বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করেন। কিন্তু তত ক্ষণে আগুন হু-হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।