
ব্রিকস সম্মেলনে কী কী খাবেন বিদেশি অতিথিরা? সপ্তাহব্যাপী VVIP-দের আনাগোনা, কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নয়াদিল্লি। কারণ, শুরু হয়েছে মেগা BRICS সম্মেলন। BRICS রাষ্ট্রগুলির প্রধান এবং তাবড় অতিথিদের আপ্যায়নেও কোমর বেঁধে নেমেছে রাজধানী শহর। দিল্লির একাধিক বিলাসবহুল হোটেলগুলি সেজে উঠেছে, আয়োজন করা হয়েছে হরেক স্বাদের খানাপিনার। কী কী মেনু থাকছে BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে চলা অতিথিদের জন্য?
১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপে আয়োজন হয়েছে ১৮তম BRICS সম্মেলনের। রাজধানী শহর এখন বিদেশি অতিথিদের ভিড়ে জমজমাট। ২০২৩ সালের G20 সম্মেলনের পর ফের একবার মেগা আয়োজন দেখা যাচ্ছে দিল্লির সর্বত্র।
নিরাপত্তারও আঁটসাঁট করা হয়েছে গোটা দিল্লি জুড়ে। হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ১১টি বিলাসবহুল হোটেলকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে। হোটেলগুলিতে থাকছে NSG কমান্ডো। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম, নজরদারির জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মোটরকেড প্রশিক্ষণ চলছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থাকবেন ITC মৌর্যতে, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং থাকবেন তাজ প্যালেসে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে লীলা প্যালেসে। মিশরের প্রতিনিধিরা থাকবে দিল্লির শেরাটন হোটেলে। এই হোটেলগুলিতে এলাহি খানাপিনারও বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বিদেশি অতিথিদের জন্য।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মেনু ঠিক করেছে ললিত হোটেল। এখ মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রায়াল দিয়ে, টেস্ট করিয়ে সমস্ত খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে-কে ওই মুখপাত্র বলেন, 'বিদেশি অতিথিরা যখনই আমাদের হোটেলে আসেন, আমরা ভারতী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করাতে চাই।' তাদের মেনুতে থাকছে মিলেটের খাবার, বেগুনের পদ, বাধাকপি, জাপানি স্টাইলের রাজমা। এছাড়াও অতিথিরা চেখে দেখতে পারবেন গলৌটি কাবাব, তন্দুরি রুটি।

লীলা প্যালেস হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রীতি মাখিজা জানান, মিলেটের কুকিজ, হ্যান্ডমেড গ্রানোলা বার এবং খাবার পদ্ম। এতে থাকবে গোলাপ, স্যাফরন এবং দাড়চিনির স্বাদ। এছাড়াও থাকবে ভারতীয় ফল।
তাজ মহল হোটেলের এরিয়া ডিরেক্টর ড. আনমোল আলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, তারা অতিথিদের পাতে রেখেছেন পুরনো দিল্লির ময়দা কাজু, মহারাষ্ট্রের ভাকারওয়াদি, রাজস্থানের মিনি কচুরি, বাংলার কুচো নিমকি এবং তামিলনাড়ুর মুরুক্কু।
দিল্লিকে সাজিয়েও তোলা হয়েছে। একটি মেকওভার করা হয়েছে শহরটির। রাস্তা মেরামত করা হয়েছে, ফুটপাথ পরিষ্কার করা হয়েছে, আঁকা হয়েছে নতুন জেব্রা ক্রসিং। বিভিন্ন দেওয়ালে থিম অনুযায়ী গ্রাফিটি আঁকা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির সৌন্দর্যায়নও হয়েছে। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিল্লির একাধিক রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সাধারণ যাত্রীদের যতটা সম্ভব মেট্রো রুট ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।