Delhi Police: 'বাবার ইউনিফর্ম রক্তে ভেসে গিয়েছিল,' এ বার আসরে CJP আন্দোলনে আহত পুলিশদের সন্তানরা

এবার ন্যায়বিচার চেয়ে সোচ্চার CJP আন্দোলনে আহত দিল্লি পুলিশ কর্মীদের ছেলেমেয়েরা। কেউ বলছেন, বাবা মরেই যাচ্ছিলেন। কারও কথায়, 'বাবার ইউনিউফর্ম রক্তে ভেসে গিয়েছিল। এবার আমরা ন্যায়বিচার চাইব।'

Advertisement
 'বাবার ইউনিফর্ম রক্তে ভেসে গিয়েছিল,' এ বার আসরে CJP আন্দোলনে আহত পুলিশদের সন্তানরা
হাইলাইটস
  • CJP আন্দোলনে আহত দিল্লি পুলিশ কর্মীদের ছেলেমেয়েরা সরব
  • কেউ বলছেন, বাবা মরেই যাচ্ছিলেন
  • কারও মতে, এবার তাঁদের ন্যায়বিচার চাওয়ার সময়

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে আহত হওয়া পুলিশকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা এবার সোচ্চার হলেন। গত ২০ জুন যন্তর মন্তর থেকে ছাত্র আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। সেই মিছিল চলাকালীন একাধিক পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দিলেন। অনেক পুলিশ কর্মীর সন্তান আবেগনপ্রবণ হয়ে পড়েন। 

আহত এক পুলিশ কর্মীর ছেলে বলেন, 'সেদিন বাবা ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর দেখলাম খাঁকি ইউনিফর্ম রক্তে ভেসে গিয়েছে। বাবার মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত ছিল।'

দিল্লি পুলিশের SP-র স্ত্রী অবনীৎ কউরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস কনফারেন্সে। সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, '২০ জুলাই রাতে আমার স্বামী যখন আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন, তাঁর অবস্থা দেখে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। সেই দৃশ্য আমাদের ২ বছরের মেয়ের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ছিল। আমার নিষ্পাপ মেয়ে তার বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।'

বিক্ষোভকারীদের হিংসাত্মর মনোভাব ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অবণীৎ কউর। তিনি বলেন, 'মানুষ ভুলে যায়, একজন পুলিশ কর্মী শুধু একজন উর্দিধারী নন। তাঁরও পরিবার রয়েছে। তাঁর স্ত্রী, ছোট সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। যাঁরা প্রতি মুহূর্তে তাঁর নিরাপদে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকেন।'

আহত সাব ইন্সপেক্টরের মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'পুলিশ যোগ দেওয়ার আগে আমার বাবা ভারতীয় নৌবাহিনীতে একজন মেরিন কমান্ডো ছিলেন। তিনি তাঁর জীবনের ১৫ বছর ভারতীয় নৌবাহিনীকে দিয়েছেন। সেদিন আমার বাবা ব্যারিকেডে মোতায়েন ছিলেন। সেখানেই বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। বাবা আমাকে বলেছিল, এটা আর কেবল ছাত্র আন্দোলন নেই। এতে সমাজবিরোধীরা ঢুকে পড়েছে।' 

সেই ভয়াবহ দিনের কথা মনে করে মেয়ে বলেন, '২৫ তারিখ বিক্ষোভ চলাকালীন জনতা আমার বাবাকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। তিনি প্রায় মারাই যাচ্ছিলেন। হামলার পর তিনি ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁর সহকর্মীরা কোনওমতে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। তাঁর পুরো ইউনিফর্ম রক্তে ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু যখন আমি সোশ্যাল মিডিয়া খুললাম, তখন এটা দেখে অবাক হলাম, আমার বাবাকেই একজন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল।' তিনি আরও বলেন, 'পরের দিনই জানতে পারলাম, যাঁরা আমার বাবাকে আক্রমণ করেছিল, তাঁদের অপরাধ ঢাকার জন্য এবং তাঁর ও সমস্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে অবিযোগ দায়ের করতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হচ্ছে। আমি গভীর ভাবে মর্মাহত হয়ে সিদ্ধান্ত নিই, আমারও বাবার জন্য ন্যায়বিচার চাওয়া উচিত। আমি অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের পরিবারের থেকে সমর্থন পেলাম এবং আমরাও সুপ্রিম কোর্টে গেলাম। আইনজীবী আমাদের আশ্বাস দিলেন, এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সমান অধিকার আছে এবং আমরা ন্যায়বিচার পাব।'

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement