CJP Chalo Sansad March: 'আরশোলাদের' সংসদ অভিযান, আধা সেনা, পুলিশে ছয়লাপ দিল্লি, তৈরি জলকামানও

২০ জুলাই সংসদ মিছিলের বিষয়ে CJP-র ঘোষণার পর দিল্লি পুলিশ তাদের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পুলিশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি বা দেওয়াও হয়নি। তাই, অনুমতি ছাড়া যারা মিছিল বা বিক্ষোভ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন দিল্লি জেলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ, মিছিল এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।

Advertisement
'আরশোলাদের' সংসদ অভিযান, আধা সেনা, পুলিশে ছয়লাপ দিল্লি, তৈরি জলকামানওআরশোলাদের সামলাতে ময়দানে ৫০০০ পুলিশ

 আজ সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন। আর এদিন সোমবার, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রবিবার জারি করা একটি জনবিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার জন্য CJP  বা অন্য কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুমতি চাওয়া হয়নি বা দেওয়াও হয়নি। অতএব, যেকোনও অননুমোদিত পদযাত্রা, মিছিল বা বিক্ষোভ আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসিপি শচীন শর্মা জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় অসামরিক সুরক্ষা আইনের (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ, মিছিল, প্রতিবাদ বা সভা করা নিষিদ্ধ। পুলিশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সংসদের দিকে কোনও অননুমোদিত পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ ভবন, বিজয় চক, সাউথ ব্লক, নর্থ ব্লক এবং এর চারপাশের সমগ্র উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

যন্তর মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা  হয়েছে-
যন্তর মন্তরে ককরোচ  জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভ এবং সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিলের ঘোষণার পর দিল্লি পুলিশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
রবিবার যন্তর মন্তরে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে।
বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও পুলিশ একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। সকল জেলা ডিসিপি, স্পেশাল ইউনিট, স্পেশাল সেল, ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ট্রাফিক পুলিশ এবং রিজার্ভ ফোর্সকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
দিল্লি সংলগ্ন সমস্ত প্রধান সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশ জলকামান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন, অতিরিক্ত সংরক্ষিত বাহিনী এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (কিউআরটি) প্রস্তুত রেখেছে।

 

২০ জুলাই সংসদ মিছিলের বিষয়ে CJP-র ঘোষণার পর দিল্লি পুলিশ তাদের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পুলিশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি বা দেওয়াও হয়নি। তাই, অনুমতি ছাড়া যারা মিছিল বা বিক্ষোভ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন দিল্লি জেলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল) জারি করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ, মিছিল এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।

Advertisement

ইতিমধ্যে ৫,০০০-এরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক কর্মী রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছে। নয়াদিল্লিকে ১৫টি নিরাপত্তা অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সংসদ, ইন্ডিয়া গেট এবং ভিভিআইপি এলাকার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ ওই এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এটি কার্যকর হলে, আদালত বা প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হয়।

প্রসঙ্গত নিট (NEET)-এর  অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই 'সংসদীয় পদযাত্রা'-র কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা রবিবার একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, 'দিল্লি পুলিশ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চায় যে, এই ধরনের কোনও  প্রতিবাদ পদযাত্রা বা মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি বা দেওয়াও হয়নি।'  পোস্টটিতে বলা হয়েছে, 'যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ব্যতীত, প্রতিবাদ মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং পাঁচ বা ততোধিক লোকের সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এর জন্য পূর্বানুমতি আবশ্যক।'

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে, ব্যারিকেড শক্তিশালী করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে যানবাহন তল্লাশি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, 'আমরা এই উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলে কোনো অননুমোদিত মিছিল ঢুকতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'

নাগরিকদের প্রতি পুলিশের আবেদন
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, 'দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইন মেনে চলতে, যেকোনও অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে এবং জনশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছে।' পুলিশ নাগরিকদের যেকোনও অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে। অনুগ্রহ করে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলি মেনে চলুন এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশকে সহযোগিতা করুন।

 

এদিন ককরোচ  জনতা পার্টি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন, সোমবার, সংসদ অভিমুখে 'সংসদ চলো' পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। পদযাত্রাটি সকাল ৯টায় শুরু হয়। এদিকে, ককরোচ  জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দীপক বলেন, 'এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পদযাত্রা হতে চলেছে। গত ১০-১২ বছর ধরে এই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। এক মাস ধরে যন্তর মন্তরে বসে থেকে আপনারা গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। দেশের সব প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন, আর দিল্লিতে ককরোচের  উপদ্রব। আমি যখন আমেরিকায় ছিলাম, তখন এই লোকেরাই আমাকে বলত যে কেউ আসবে না এবং এটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ট্রেন্ড হয়ে থাকবে। আজ আ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা লোকে ভর্তি।'  তিনি আরও বলেন, 'প্রথমত, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সকলের প্রতি ভালোবাসা। আমরা এমন কিছু অর্জন করেছি যা অন্য কেউ করতে পারেনি। এই দেশে শেষ কবে এত বড় সমাবেশ হয়েছিল? এটা আমাদের বিজয়, আমাদের প্রথম বিজয়, যে আমরা এখানে বসে আছি এবং আমাদের পদযাত্রা শুরু হতে চলেছে।'

POST A COMMENT
Advertisement