নিউ দিল্লি বেসমেন্ট আইএএস কোচিং সেন্টারদিল্লির একটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে ঢুকল জল। ঘটনায় তিন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ওল্ড রাজেন্দ্র নগরে রাও আইএএস কোচিং সেন্টারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় দু'জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, দিল্লি সরকার ঘটনার ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে জল ভর্তি হওয়ার খবর পায় দিল্লি দমকল বিভাগ। কোচিং সেন্টারের বেসমেন্ট প্লাবিত হয়ে অনেকে আটকা পড়ে যান। দমকল বাহিনী এরপর এনডিআরএফ টিমকেও জানায়। তাঁরা এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় যে জলে ডুবুরিদের নামতে হয়েছিল।
কীভাবে বেসমেন্ট জল ঢুকল?
কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে একটি লাইব্রেরি আছে। ফলে সেখানে অনেক পড়ুয়া পড়াশোনা করছিলেন। দমকল বিভাগের ডিরেক্টর অতুল গর্গের মতে, ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন আটকে পড়েন। এরপর ৩ পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুই ছাত্রী ও একজন ছাত্র রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রাণ হারানো ছাত্র নেভিন ডালভিন কেরালার বাসিন্দা। তবে গত ছয়-আট মাস ধরে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। নেভিন প্যাটেল নগরে থাকতেন এবং কোচিং সেন্টারের লাইব্রেরিতে পড়তে গিয়েছিলেন। তিনি জেএনইউ থেকে পিএইচডি করছিলেন।
ডিসিপি (সেন্ট্রাল দিল্লি) এম হর্ষ বর্ধন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। কীভাবে এত দ্রুত বেসমেন্টে জল ভরে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
#দেখুন | দিল্লি: ওল্ড রাজেন্দর নগরের ঘটনায় বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ বলেছেন, "এই শিশুরা এখানে এসেছিল তাদের ভবিষ্যত তৈরি করতে৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বিধায়ক দুর্গেশ পাঠকের সরকার স্থানীয় মানুষের কোনও অনুরোধই শোনেনি৷ দুর্গেশকে জিজ্ঞাসা করছি… pic.twitter.com/5JgVzLkU05
— ANI (@ANI) 27 জুলাই, 2024
একই সঙ্গে দিল্লির বিজেপি সাংসদ বনসুরি স্বরাজের দাবি, ড্রেন পরিষ্কার না করায় বেসমেন্ট জলে ভরে গেছে। বাঁসুরি স্বরাজ দাবি করেছেন, এক সপ্তাহ ধরে এখানকার স্থানীয়রা বারবার বিধায়ক দুর্গেশ পাঠককে ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এখান থেকে জল গিয়ে বেসমেন্টে ভরে যায়।
#দেখুন | দিল্লি: ওল্ড রাজেন্দর নগরের ঘটনায়, বিজেপি নেতা আরপি সিং বলেছেন, "...সময়মতো ময়লা ফেলার কাজ করা হয়নি। যদি সময়মতো ময়লা করা হতো তাহলে এমনটা হতো না... বেশিরভাগ এলাকায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কেন… pic.twitter.com/dINanHKcSi বিধায়ক বা দিল্লি সরকারের জবাব দেওয়া উচিত
— ANI (@ANI) 27 জুলাই, 2024
বিজেপি নেতা আরপি সিং বলেন, এখানে ময়লা পরিষ্কারের কাজ সময় মতো হয়নি। সময়ম তো ময়লা তোলার কাজ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, দিল্লি সরকার এবং বিধায়কের জবাব দেওয়া উচিত। কেন ডিসিল্টিংয়ের কাজ করা হয়নি এবং তার জন্য বরাদ্দ টাকা কোথায় গেল? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বেসমেন্ট ২-৩ মিনিটের মধ্যে জলে ভরে গেল
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেসমেন্টে একটি লাইব্রেরি ছিল, যেখানে অনেক ছাত্রছাত্রী পড়াশুনো করছিলেন। হঠাৎ বেসমেন্ট জলে ভরাট হতে শুরু করে। আটকে পড়া পড়ুয়াদের দড়ি ছুঁড়ে উদ্ধার করা হয়।
এক পড়ুয়া জানান, সন্ধ্যা ৭টায় লাইব্রেরি বন্ধ হওয়ার পর আমরা বের হতেই সামনে থেকে প্রচণ্ড জোরে জল ঢুকে আসছিল। আমরা যখন লাইব্রেরি থেকে বের হলাম, তখনই এটি হাঁটু পর্যন্ত জলে ভরে গিয়েছিল।
তিনি জানান, জলের তোড় এতটাই প্রবল ছিল যে আমরা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারিনি। ২-৩ মিনিটের মধ্যে পুরো বেসমেন্ট ১০-১২ ফুট জলে ভরে গেল।
#দেখুন | ওল্ড রাজেন্দর নগরের কোচিং ইনস্টিটিউটের বেসমেন্টে জল ভরে যাওয়ার পরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। বেশ কিছু ছাত্র আটকে পড়ার আশঙ্কা: দিল্লি দমকল বিভাগ
(সূত্র: দিল্লি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট) pic.twitter.com/AxnTgeP98n
— ANI (@ANI) 27 জুলাই, 2024
একজন পুলিশ কর্তা বলেন, বেসমেন্টে এত জল ভরে গিয়েছে যে লাইব্রেরির আসবাবপত্র ভেসে উঠতে শুরু করেছে। এই কারণে উদ্ধারকাজে বেশ সমস্যা হচ্ছে।
চারটি মোটর পাম্পের মাধ্যমে জল সরানো হয়েছে
টানা বৃষ্টিতে রাস্তা আগেই জলে ভরে গিয়েছে। এমতাবস্থায়, বেসমেন্টটি জল দিয়ে ভরাট করার পরে, এটি সরানোর জন্য একটি মোটর পাম্প ব্যবহার করা হয়েছিল। চারটি মোটর পাম্প দিয়ে জল তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে ডুবুরিদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। বিজেপি সাংসদ বনসুরি স্বরাজ বলেছেন, যদি উদ্ধারের জন্য ডুবুরি পাঠানো হয়, তাহলেই বুঝুন পরিস্থিতি কতটা গুরুতর।
ডিসিপি হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, তিন ছাত্রের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে দুইজনকে আটক করেছে। একই সঙ্গে দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টও চেয়েছেন তিনি।