দিল্লি খুন ও গণধর্ষণফের ভয়াবহ এক ঘটনার সাক্ষী দিল্লি। এবার দেশের রাজধানীতে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয়। তারপর ছুরি দিয়ে খুন করে খোলা মাঠে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপনগরে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়।
সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়ার সময় দেহটি অনেকটাই পচে গিয়েছিল। যার ফলে ফরেনসিক দলের সদস্যদের পক্ষে প্রাথমিকভাবে তার লিঙ্গ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর মুখ খুলেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, এই ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিনজন নাবালক রয়েছে। চতুর্থ অভিযুক্তের নাম শিবম ওরফে সুদামা।
কবে সামনে আসে এই ঘটনা?
১৩ সেপ্টেম্বর সকালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। স্বরূপ নগরের কুশাক রোডের কাছে চাষের জমিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনার খবর যায় পুলিশে। তারপর পুলিশ সেখানে পৌঁছয়।
পুলিশের দাবি, ওই কিশোরী এবং অভিযুক্তরা একে অপরকে চিনত। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি টেম্পোর ভিতরে ওই কিশোরীর সঙ্গে মদ্যপান করেছিল। এরপর তাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিশোরীর দেহের কিছু অংশ পথকুকুর খেয়ে ফেলেছিল। মাঠের মধ্যে তাঁর একটি হাতও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমনটাই দাবি করা হয়েছে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে।
যদিও কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার কোনও অভিযোগ তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। পুলিশকে পরিবার জানিয়েছে, ওই কিশোরী প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন। আর ফিরে আসতেন কয়েক দিন পর।
পুলিশ জানিয়েছে, ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা এই ঘটনার কিনারা করেন। একটি টেম্পোকে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে। তবে অন্ধকার কম থাকায় প্রথমে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বোঝা যায়। পরে ওই টেম্পোটিকে চিহ্নিত করা হয়। তারপর খাড্ডা কলোনিতে সেটি পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর টেম্পোর চালককে আটক করে পুলিশ। তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরার পর পুলিশ আরও তিন সন্দেহভাজনের সন্ধান পায়। এরপর চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, খুনে ব্যবহৃত দু'টি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় অভিযুক্তরা যে পোশাক পরেছিল, সেই রক্তমাখা জামাকাপড়ও উদ্ধার করা হয়েছে।
টেম্পো চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিন নাবালক এবং শিবম ওরফে সুদামাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির পাশাপাশি শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন বা POCSO Act-এর ৬ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।