লোকসভা ভবনসংসদে বাদল অধিবেশনেই ডিলিমিটেশন বিল (আসন পুনর্বিন্যাস বিল) আনতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে ঐকমত্য গড়ে তুলতে একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং ডিএমকে (DMK)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সরকারের একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে।
ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে 'নরম' তৃণমূল
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ডিলিমিটেশন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে যে প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলি নিয়ে দলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। নরম মনোভাব নিয়েছে ডিএমকে-ও। তারা জানিয়েছে, সরকার ডিলিমিটেশন বিলের নয়া খসড়া আগে আনুক সংসদে, তারপর তারা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে
ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এর আগে তীব্র বিরোধিতা করেছিল ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি। কংগ্রেসও তীব্র বিরোধী এই বিলের। চলতি বছরের এপ্রিলে বাজেট অধিবেশনের বিশেষ পর্বে বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংসদে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিল পেশ করতে সক্রিয় হয় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে আনা এই বিলের পোশাকি নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। সেই বিলের সঙ্গেই ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলও পেশ করা হয়। বিলের মূল বিষয় ছিল, ২০২৭-এর জনগণনা নয়, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করা হবে। সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে। আর তার এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এর আগে পাশ হয়নি ডিলিমিটেশন বিল
কিন্তু বিরোধী জোট এক হয়ে ওই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে। যার নির্যাস, সংসদে ভোটাভুটিতে পাশ হয়নি বিলটি। বিরোধী জোটের কাছে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ায় বিল পাশ হয়নি। বিরোধীদের দাবি ছিল, মহিলা সংরক্ষণে সমর্থন জানালেও তাঁরা কোনও ভাবেই এর আড়ালে গোটা দেশের আসন পুনর্বিন্যাসে সম্মতি জানাবেন না৷ তৃণমূল কংগ্রেসেরও একই অবস্থান ছিল। ৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার শেষবার লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (৫২২ থেকে বেড়ে ৫৪৩) করেছিল বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু INDIA জোটের যুক্তি ছিল, ২০১১-এর জনগণনা অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস করলে উত্তর ভারতে বিজেপির শক্তঘাঁটি গো-বলয়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। অন্যদিকে দক্ষিণ, উত্তর-পূর্ব এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমবে।