প্রধানমন্ত্রীর ব্রেকফাস্ট মিট, দেব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে শুক্রবার ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বেরিয়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদরা। কিন্তু বিদ্রোহী তৃণমূলের এই শিবিরে দেখা যায়নি দেবকে। অভিনেতা সাংসদকে নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন নিজেই অনুপস্থিতির কারণ জানালেন।
কেন গেলেন না প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে?
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রেকফাস্ট মিটই শুধু নয়, তার আগে যখন NCPI নেতাদের সঙ্গে দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেন, তখনও ফ্রেমে দেখা যায়নি দেবকে। ঘাটালের সাংসদ কি তবে কাকলি গোষ্ঠীর সঙ্গে নেই? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
কিন্তু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজেই অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন দেব। তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে তিনি ২টি বৈঠকেই যোগ দিতে পারেননি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা।
দেব কী লিখেছেন?
দেবের কথায়, 'পূর্বনির্ধারিত শুটিংয়ের প্রতিশ্রুতি থানায় আমি আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আমি আগামী দিনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছি। রাজ্যের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাব।'
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শুক্রবার সকালে দিল্লিতে ব্রেকফাস্ট করেন ১৯ জন NCPI সাংসদ। তাঁদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন কেবলমাত্র দেব। মিনিট ৪৫-এর এই বৈঠকে রাজ্যের উন্নতির বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ফিট থাকার টিপসও সাংসদদের দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যয় বলেন, 'একটা খুব উৎসাহব্যঞ্জক কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সকলকে পরামর্শ দিয়েছেন, ৪০ বছর বয়স অতিক্রম করলেই যেন নিয়মিত মেডিক্যাল চেক আপ করানো হয়। সঙ্গে তিনি জানতে চান, কারা কারা যোগা করেন, হাত তুলতে বলেন আমাদের।' শতাব্দী রায় বলেন, 'উনি সকলকেই বলেন, ৪০ বছরের উপরে যাঁদের বয়স তাঁরা একবার করে মেডিক্যাল চেক আপ অবশ্যই করো, নিয়মিত যোগা করো। নিরামিষ খাবার ছিল ব্রেকফাস্টে, তবে প্রধানমন্ত্রী তো কিছু খান না, উনি শুধু চা খেয়েছেন। আমরা পায়েস খেয়েছি।' রচনার কথায়, 'জীবনে কোনও কোনও দিন এমন আসে, যা ভোলা যায় না। আজকের ব্রেকফাস্ট মিট তেমনই একটা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের সঙ্গে বসে চা খেলেন, গল্প করলেন, আমাদের পরামর্শ দিলেন, আমরা কৃতজ্ঞ। উনি যেভাবে দেশের সকল স্তরের মানুষের উন্নতি করছেন, তা প্রশংসনীয়।' ব্রেকফাস্ট মিটে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠীকে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, 'চিন্তা করবেন না, আমি পাশে আছি।'
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের ৩ 'বেসুরো' NCPI সাংসদ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং ইউসূফ পাঠানও।