Dharmendra Pradhan Resign দাবির মাঝেই মোদীর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ, কারণটা কী

হার সত্ত্বেও এই মন্ত্রীকে নিজের মন্ত্রিসভায় টেনে নেন নরেন্দ্র মোদী। করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর হাতে দেওয়া হয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক। যার পূর্ণমন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন রেলের প্রতিমন্ত্রীও, যে মন্ত্রকের দায়িত্বে অশ্বিনী বৈষ্ণব।

Advertisement
Dharmendra Pradhan Resign দাবির মাঝেই মোদীর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ, কারণটা কীকেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা বিট্টুর।
হাইলাইটস
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা রভনীত সিং বিট্টুর।
  • লোকসভা ভোটে হেরেছিলেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে সরব বিরোধীরা। যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে। যে আন্দোলনের একটাই দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিন অথবা তাঁকে পদ থেকে সরানো হোক। এর মধ্যেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের এক মন্ত্রীর পদত্যাগ। নাম রভনীত সিং বিট্টু। তিনি পঞ্জাবের বাসিন্দা।

পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেয়ন্ত সিংয়ের পৌত্র রভনীত। লুধিয়ানা আসন থেকে দু'বার এবং শ্রী আনন্দপুর সাহিব থেকে একবার লোকসভার সাংসদ থেকেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগে, মার্চে কংগ্রেসের দীর্ঘ সম্পর্ক শেষ করে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকে লুধিয়ানা থেকেই টিকিট দেয় পদ্মশিবির। তবে সেখানে কংগ্রেসের বর্তমান প্রদেশ সভাপতি অমরিন্দর সিংয়ের পরাজিত হন। হারের ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার ভোট। 

পরাজয় সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদী রভনীতকে নিজের মন্ত্রিসভায় টেনে নেন। প্রতিমন্ত্রী করেন। তাঁর হাতে দেওয়া হয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক। যার পূর্ণমন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন রেলের প্রতিমন্ত্রীও, যে মন্ত্রকের দায়িত্বে অশ্বিনী বৈষ্ণব।

এরপরের ধাপ ছিল তাঁকে সংসদে নিয়ে আসা। লোকসভায় হেরে গিয়েছিলেন, তাই তাঁকে রাজ্যসভার পথ ধরে আনা হয়। আর সেই পথ তৈরি হয় রাজস্থান থেকে। রাজস্থান থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ছিলেন কে সি বেণুগোপাল। কিন্তু তিনি কেরলা থেকে লোকসভা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসার পর ওই আসনটিতে উপনির্বাচন দরকার হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীর জয় ছিল কেবলই সময়ের অপেক্ষা। সেই সুযোগেই রভনীত বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় নিয়ে আসা হয়।

তবে সেটা ছিল উপনির্বাচন। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছিল ২০২৬ সালে। ফলে বিট্টুর পদত্যাগ ছিল কার্যত অবশ্যম্ভাবী। একটি সম্ভাবনা অবশ্য ছিল যে তাঁকে ফের রাজ্যসভায় ফিরিয়ে আনা হবে। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, বিট্টু জনতার নেতা। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর ঠাকুরদা বেয়ন্ত সিং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন খালিস্তানি উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত হন। ফলে পঞ্জাবে তাঁর প্রতি সহানুভূতিও রয়েছে। ফলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে যখন পঞ্জাব বিধানসভার নির্বাচন হবে, তখন তাঁকে সেখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হতে পারে।

Advertisement

সাংসদ থাকাকালীন রভনীত বিট্টু একবার বিধানসভা নির্বাচন লড়ে হেরে গিয়েছিলেন। সময়টা ছিল ২০১৭ সাল। জালালাবাদ আসন থেকে তিনি তৎকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রকাশ সিং বাদলের পুত্র সুখবীর সিং বাদলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শোচনীয়ভাবে হারেন।

বিট্টুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। তার আগে তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী। পঞ্জাব প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন। ২০০৯ সালে শ্রী আনন্দপুর সাহিব থেকে প্রথম বার লোকসভায় জয়ী হন। ২০১৪ সালে মনমোহন সিং সরকারের মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি স্বাস্থ্যগত কারণে লুধিয়ানা আসন থেকে লড়তে চাননি। রভনীত বিট্টুকে সেখানে পাঠানো হয়। ২০১৪ এবং ২০১৯, দুই নির্বাচনে তিনি সেখান থেকে জয়ী হলেও ২০২৪-এ সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি।

বিট্টুর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। আর এই ইস্তফায় চমকের কোনও উপাদান নেই। অন্যদিকে, সরকার নিজের সিদ্ধান্তে এখনও অটল যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নেওয়া হবে না। উল্টো দিকে সিজেপি-র বক্তব্য, ইস্তফা না এলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

POST A COMMENT
Advertisement