সোনম ওয়াংচুকনিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ২৬ দিন অনশন করেছেন তিনি। আর অনশন তুলে নিতেই তাঁর দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন অনেকে। এমনকী কেউ কেউ 'খারাপ ভাষায়' সমালোচনা করতেও পিছপা হচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের প্রশ্ন, '৬ দিন অনশন করার পরও কি আমাকে সততার প্রমাণ দিতে হবে?'
আসলে অনশন ভাঙার পরই সোনমের দিকে উড়ে আসছিল নানা প্রশ্নবান। এমনকী তিনি সরকারের সঙ্গে কোনও 'সমঝোতা' করেছেন বলেও অভিযোগ উঠছিল। যদিও হাসপাতাল থেকেই সমালোচকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন সোনম। তিনি জানতে চান, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রায় এক মাস অনশন করার পরও কি তাঁকে আবার নিজের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে?
এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা দেন সোনম। সেখানে তিনি জানান, সরকারের সঙ্গে আপস করে তিনি অনশন ভাঙেননি। তাঁর সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক জল্পনার চোখে না দেখার আবেদনও জানান তিনি।
সমাজমাধ্যম এক্স (X)-এ ভিডিওটি শেয়ার করে ওয়াংচুক লেখেন, '২৬ দিন অনশন করার পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে?' তিনি সকলকে অনুরোধ করেন, কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে যেন তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে থাকা ২২ মিনিটের সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর বার্তাটি যাতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেই আবেদনও করেন তিনি।
এই ভিডিওতে তিনি সমালোচকদের কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তাঁর মতে, এই ধরনের অভিযোগ তাঁর এতদিনে প্রতিবাদকে ছোট করে দেয়।
আসলে বৃহস্পতিবার ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম। সেই সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। কারণ, তিনি জানিয়েছিলেন যে সরকার তাঁর মূল দাবিগুলির বিষয়ে ইতিবাচক কথা বলেছে।
কী আবেদন সোনমের স্ত্রীর?
বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান, তাঁর স্বামীর সিদ্ধান্ত নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিচার না করতে। তাঁর স্বামী অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
এক্স-এ আবেগঘন পোস্টে আংমো জানান, ২৬ দিনের অনশনে ওয়াংচুকের ১১ কেজি ওজন কমেছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে ভর্তি।
কেন অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক?
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের একাধিক দাবি নিয়ে সরকারের আশ্বাস দেন সোনমকে। এরপরই তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেন ওয়াংচুক।
ওয়াংচুকের দাবি, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি এক্সাম সিস্টেমের সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য আত্মহত্যাকরী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।