।দীনেশ ত্রিবেদী।-ফাইল ছবিভারতের প্রতিবেশী কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করল নয়াদিল্লি। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। খুব শীঘ্রই তিনি ঢাকায় গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সূত্রের খবর।
এতদিন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক প্রণয় বর্মা। তাঁকে এবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর জায়গাতেই বসানো হচ্ছে দীনেশ ত্রিবেদীকে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশে পেশাদার কূটনীতিকের বদলে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এই পদে পাঠানো বেশ বিরল ঘটনা।
কে এই দীনেশ ত্রিবেদী?
একসময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। কিন্তু ২০১৬ সালের পর ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয়। শেষমেশ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। গুজরাতের ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও বাংলায় সাবলীল দখল রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কও এই নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত অভিজ্ঞ আইএফএস আধিকারিকদেরই এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানো মানে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া।
এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং সীমান্ত, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে সরাসরি সমন্বয় সাধনের সম্ভাবনা বাড়ে।
কূটনীতির নতুন কৌশল?
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে আঞ্চলিক রাজনীতি, সীমান্ত পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই ‘পলিটিক্যালি কানেক্টেড’ একজন মুখকে সামনে আনা হয়েছে।