‘DM কাকু, আমরা কোথায় যাব?’ মাঝরাতে জেলা শাসকের বাড়িতে হাজির জলমগ্ন গ্রামের শিশুরা

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার। টানা বৃষ্টির জেরে সদর তহসিলের কানওয়ারা এলাকার ধান্ধু ডেরা গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, সরকারি দফতর খোলার অপেক্ষা না করে রাতেই জেলা শাসকের বাসভবনের সামনে গিয়ে জড়ো হন কয়েক ডজন গ্রামবাসী।

Advertisement
‘DM কাকু, আমরা কোথায় যাব?’ মাঝরাতে জেলা শাসকের বাড়িতে হাজির জলমগ্ন গ্রামের শিশুরাজেলাশাসকে দুয়ারে গ্রামবাসীরা-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি জলমগ্ন।
  • স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সমাধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি জেলা শাসকের (ডিএম) বাড়িতে পৌঁছে গেলেন গ্রামের বাসিন্দারা।

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি জলমগ্ন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সমাধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি জেলা শাসকের (ডিএম) বাড়িতে পৌঁছে গেলেন গ্রামের বাসিন্দারা। শিশুদের কোলে নিয়ে তাঁদের একটাই আবেদন ছিল, ‘ডিএম আঙ্কেল, আমরা কোথায় যাব? দয়া করে জলটা বের করে দিন।’

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার। টানা বৃষ্টির জেরে সদর তহসিলের কানওয়ারা এলাকার ধান্ধু ডেরা গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, সরকারি দফতর খোলার অপেক্ষা না করে রাতেই জেলা শাসকের বাসভবনের সামনে গিয়ে জড়ো হন কয়েক ডজন গ্রামবাসী।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টির পানি বের হওয়ার নালা হয় বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো কিছু জায়গায় তা দখল হয়ে রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামে জল জমে যায়। এবার টানা বর্ষণের জেরে বহু বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে খাদ্যশস্য, কাপড়, বিছানাপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। গ্রামের রাস্তাগুলিও প্রায় দু'ফুট জলের তলায় চলে গেছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কার্যকর কোনও পদক্ষেপ হয়নি। অভিযোগ, বিভিন্ন দফতর একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত সব আশা হারিয়েই তাঁরা সরাসরি জেলা শাসকের দ্বারস্থ হন।

মধ্যরাতে জেলা শাসকের বাসভবনে পৌঁছে তাঁরা দ্রুত জল নিষ্কাশনের দাবি জানান। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে এবং শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকজনের অভিযোগ, গ্রামের প্রাকৃতিক নিকাশি নালা দখল করে জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ শোনার পর জেলা শাসক অমিত আসেরি অবিলম্বে বিষয়টি আমলে নেন। তিনি সদর এসডিএমকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

Advertisement

সদর এসডিএম নমন মেহতা জানিয়েছেন, নাইব তহসিলদার এবং রাজস্ব বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। কোথাও অবৈধভাবে নিকাশি নালা দখল করা হয়ে থাকলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নতুন সমস্যা নয়। তবে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া এবং প্রাকৃতিক জলপথ দখল হয়ে যাওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিও বড় সংকটের রূপ নিচ্ছে। বান্দার এই ঘটনা সেই পরিকাঠামোগত সমস্যাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।

 

POST A COMMENT
Advertisement