। সূত্রের দাবি, রাজৌরি জেলার লাইন অব কন্ট্রোল সংলগ্ন এলাকায় ড্রোনগুলি নজরে আসে। ফের উত্তপ্ত লাইন অব কন্ট্রোলের পরিস্থিতি। মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় অন্তত দু’টি ড্রোন দেখা গিয়েছে। এমনটাই সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কড়া সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমনটা ঘটল। পাকিস্তানের উদ্দেশে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং সীমান্তে উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। তার পরই রাজৌরি সেক্টরে ড্রোনের উপস্থিতি। এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে। সূত্রের দাবি, রাজৌরি জেলার লাইন অব কন্ট্রোল সংলগ্ন এলাকায় ড্রোনগুলি নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সেনা সক্রিয় হয়। পরিস্থিতি বুঝে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনা জওয়ানরা আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনগুলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত ড্রোনগুলিকে ধ্বংস করা হয়।
সূত্রের খবর, রাজৌরি সেক্টরের দুঙ্গালা নাবলা এলাকায় একাধিক পাকিস্তানি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় সেনার তরফে সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালানো হয়। ড্রোনগুলি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় বলে সূত্রের দাবি। যদিও এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। নিরাপত্তা বাহিনী গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সেনাপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিলেন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন কিংবা সীমান্তে কোনও রকম উস্কানি বরদাস্ত করা হবে না, এই বার্তাই দিয়েছিলেন। তার পরেই ড্রোন দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছক নজরদারি? না কি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল?
সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন আর শুধু নজরদারির মাধ্যম নয়। অস্ত্র, বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের ক্ষেত্রেও ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। কম খরচে, কম ঝুঁকিতে সীমান্ত পেরিয়ে নজরদারি বা উস্কানি দেওয়ার জন্য ড্রোনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সেনা সূত্রে খবর, সীমান্তে কোনওরকম অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা গেলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেনাপ্রধানের কড়া বার্তার পরেও সীমান্তে বারবার এই ধরনের পরিস্থিতি হচ্ছে কেন? ড্রোন-নির্ভর আধুনিক যুদ্ধকৌশল কি ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে? আপাতত রাজৌরি সেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে সেনাবাহিনী।