মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়২ বছর অপেক্ষার পর কেন বিধানসভা ভোটের আগে হঠাৎ করে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি? এবার আইপ্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে এই প্রশ্ন তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি গোটা ঘটনার পিছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শীর্ষ আদালতে।
এ দিন আদালতে ইডির করা মামলা শুনছে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করে কপিল সিব্বল বলেন, 'যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা খুবই বিরক্ত। কেন দুই বছর অপেক্ষার পর ইডি বাংলায় এল? এটা শুধু সমস্যা তৈরির চেষ্টা। ইডি ওখানে ছিল। সেখানে ১২টা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যান এবং ১২টা ১৫ নাগাদ বেরিয়ে আসেন (৮ জানুয়ারি)।'
ইডি-এর কী বক্তব্য?
বৃহস্পতিবার আদালতে প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশকে আক্রমণ করে ইডি। তাদের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি দাবি করেন, রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ সব নথি চুরি করেছেন।
তাঁর কথায়, 'আইপ্যাকের দফতরে অভিযান চলছিল। তখন সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে।' তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি-এর আধিকারিকদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তদন্তকারীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। আর সেই কারণেই তদন্তে ব্যাঘাত ঘটে বলে জানান তিনি।
আর কী অভিযোগ?
ইডির তরফ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, এই গোটা ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছে রাজ্য পুলিশ। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা এর পিছনে ছিলেন। তাই ইডি-এর পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্ম এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমারকে বরখাস্ত করার দাবি জানান হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে FIR করতেও চেয়েছে ইডি।
কেন এই তল্লাশি?
তৃণমূল বারবার প্রশ্ন তুলেছে যে কেন আইপ্যাক দফতরে হঠাৎ তল্লাশি চালাল ইডি। এর স্বপক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন তুষার মেহতা। তিনি জানান, অবৈধভাবে তোলা কয়লার টাকা পাচার নিয়েই এই তল্লাশি। মোট ২৭৪২ কোটির দুর্নীতি হয়েছে বলে আদালতে জানায় ইডি। সেই দুর্নীতির তথ্য খোঁজার জন্যই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালানো হয়।