NCERT ইস্যুতে দুঃখপ্রকাশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর, আদালতের নির্দেশ মানার আশ্বাস

অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 'বিচার বিভাগের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আদালত যা নির্দেশ দিয়েছে, সরকার তা পূর্ণভাবে মেনে চলবে,' জামশেদপুরে এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, 'যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।'

Advertisement
NCERT ইস্যুতে দুঃখপ্রকাশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর, আদালতের নির্দেশ মানার আশ্বাস
হাইলাইটস
  • অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
  • 'বিচার বিভাগের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 'বিচার বিভাগের প্রতি আমরা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আদালত যা নির্দেশ দিয়েছে, সরকার তা পূর্ণভাবে মেনে চলবে,' জামশেদপুরে এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, 'যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।'

আদালতের নির্দেশ মানার আশ্বাস
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ‘বিচারিক দুর্নীতি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকা এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পার্ট ২ বইটির উৎপাদন ও বিতরণে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি আদালত অবমাননার সম্ভাব্য অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।

এই প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-কে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'বিচার বিভাগকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য সরকারের ছিল না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং প্রয়োজন হলে তদন্তও হবে।'

তিনি আরও জানান, পাঠ্যবই ও সংশ্লিষ্ট অধ্যায় তৈরির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 'বিচার বিভাগের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ মানা আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব,' এমন আশ্বাসও দেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট সংশোধিত অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বইটির সমস্ত ভৌত ও ডিজিটাল কপি অবিলম্বে জনসাধারণের নাগালের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। স্কুলগুলিকে ওই প্রত্যাহার করা বই থেকে কোনও পাঠ না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এনসিইআরটি-র পরিচালকের উপর ইতিমধ্যেই পাঠানো কপিগুলি বাজেয়াপ্ত করে আদালতে সম্মতি প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব বর্তায়। পাশাপাশি সমস্ত রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিবদের দু সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের খসড়া তৈরিতে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় ও বৈঠকের কার্যবিবরণী জমা দিতে হবে। আদালত অবমাননা আইনের আওতায় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়েছে।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে
২০২৬ সালের সংস্করণে প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ‘আমাদের সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়কে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূচনা। ওই অধ্যায়ে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ, মামলার জট এবং বিভিন্ন স্তরের আদালতে বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলার উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিচারকদের অভিশংসন প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করা হয়।

এই বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে তীব্র আপত্তি ওঠার পর এনসিইআরটি বইটির বিতরণ স্থগিত করে। জানা গিয়েছে, মুদ্রিত ২.২৫ লক্ষ কপির মধ্যে মাত্র ৩৮টি বিক্রি হয়েছিল প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে।

 

POST A COMMENT
Advertisement