ইদ উল ফিতর বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন পবিত্র উৎসব ইদ-উল-ফিতর উদযাপনের। ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবটি পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি নির্দেশ করে। রমজান মাসে মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন, নমাজ পাঠ করেন এবং দানধ্যানে মনোযোগ দেন।
ইদ-উল-ফিতর, যাকে রোজা ভাঙার উৎসবও বলা হয়, আনন্দ ও ভক্তিভরে উদযাপিত হয়। এই দিনে পরিবার-পরিজন একসঙ্গে নমাজ পাঠ করেন। বিশেষ খাবার তৈরি করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন একে অপরের সঙ্গে। দরিদ্রসেবাও খুশির ইদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতে এই উৎসবকে অনেক সময়ে মিঠি ইদও বলা হয়। কারণ এদিন বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার তৈরি করা হয়।
ইদ উল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ
২০২৬ সালে ইদ উল ফিতর উদযাপনের সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ। তবে এটি নির্ভর করবে সাবান মাসের চাঁদ দেখার উপর। যদি ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ অনেক দেশে ইদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে উৎসব একদিন পর পালন করা হবে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চাঁদের দেখা মিলবে কবে?
অনেক ইসলামিক উৎসবের তারিখ নির্ধারণে সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এখানে অবস্থিত ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কা। অনুমান করা হচ্ছে, এ বছর ১৯ মার্চ সৌদি আরব ও গাল্ফ অঞ্চলে সাবান মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। যদি সেদিন চাঁদ নিশ্চিত হয় তাহলে ২০ মার্চ, শুক্রবার ইদ উদযাপিত হবে।
> সৌদি আরব
> সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
> ওমান
> তুরস্ক
কেন ভারতে সাধারণত একদিন পর ইদ হয়?
ভৌগলিক কারণে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর ইদ হয়। কারণ চাঁদ ক্ষুদ্র অর্ধচন্দ্র প্রথমে পৃথিবীর পশ্চিমাঞ্চলে দেখা যায়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি আগে চাঁদ দেখতে পারে আর পূর্বদিকে অবস্থিত দেশগুলিতে তা পরর দিন দৃশ্যমান হয়।
ফলে সাধারণত যে দেশগুলিতে একদিন পরে ইদ পালিত হয়-
> ভারত
> পাকিস্তান
> বাংলাদেশ
> শ্রীলঙ্কা
এই দেশগুলিতে ইদের সম্ভাব্য তারিখ ২১ মার্চ, শনিবার। অর্থাৎ এ দেশে ইদের সরকারি ছুটি ওইদিন।
ইদ উল ফিতরের তাৎপর্য
ইদ উল ফিতরের রমজান মাসের শেষ এবং আনন্দের সূচনা নির্দেশ করে। ইদের সকালে মুসলিমরা মসজিদ বা খোলা মাঠে বিশেষ ইদের নমাজ পাঠ করেন।
এই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জাকাত আল ফিতর। যা ইদের নমাজের আগে দরিদ্রদের দেওয়া হয়। যাতে তারাও উৎসবের আনন্দে অংশ নিতে পারে।
ইদের দিন পরিবার পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সুস্বাদু খাবার খাওয়া, মিষ্টি বিতরণ এবং ইদ মোবারক শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। রমজান শেষের দিকে পৌঁছলে সারা বিশ্বের মুসলিমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন সাবান মাসের চাঁদ দেখার জন্য। যা আনুষ্ঠানিক ভাবে ইদ উল ফিতর উদযাপনের সূচনা ঘোষণা করবে।