ভারতের বর্ষায় El Nino এফেক্টবাড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা। এবার তা নিশ্চিত করলেন বিজ্ঞানীরাও। গত ৩ জুলাই বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে তা আরও শক্তিশালী হতে পারে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই আবহাওয়া সংস্থার সতর্কতা, এর ফলে বিশ্বের বহু অংশে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার আশঙ্কা প্রবল। ভারতে বর্ষার বৃষ্টিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এল নিনো? গরম কি আরও বাড়বে?
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে দাবি, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা নাকি এক ধাক্কায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে চলেছে। এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ কোনও সরকারি পূর্বাভাস নেই।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। যার ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণ পরিস্থিতিতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা বায়ু উষ্ণ জলকে ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনোর সময়ে এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে উষ্ণ জল পূর্ব দিকে ধেয়ে আসে। তার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের চেনা ছন্দ বদলে যায়। এই কারণেই পেরুর উপকূলবর্তী সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব গিয়ে পড়ে ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা আফ্রিকার বৃষ্টিপাতের ওপর।
WMO-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান,'এই পরিস্থিতি দ্রুত আরও শক্তিশালী রূপ নিতে চলেছে'। এর ফলে বিশ্বজুড়ে খরা, অতিবৃষ্টি এবং তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার বাড়ার দাবি কি সত্যি?
কোনও সরকারি সংস্থাই ৪ ডিগ্রি এল নিনোর পূর্বাভাস দেয়নি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমান, প্রধান অঞ্চলগুলিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ৪ ডিগ্রি আবহাওয়ার কোনও গ্রাফকে ভুল ব্যাখ্যা করার ফলে তৈরি হয়েছে। তবে ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিই যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।
ভারতে বর্ষার উপর কি প্রভাব?
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। দেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে এই মৌসুমি বায়ুর হাত ধরে। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, এবার গড়ের তুলনায় ৯০ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে। খামতি থাকার আশঙ্কা প্রায় ৩৫ শতাংশ।
তবে এল নিনোর সঙ্গে খরা বা কম বৃষ্টির এই সম্পর্কটি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, এটা সম্ভাবনা মাত্র। ভারতের নিজের ঘরের কাছে ভারত মহাসাগরের নিজস্ব কিছু জলবায়ু চরিত্র (যেমন ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল) অনেক সময় এল নিনোর ধাক্কা সামাল দিতে সাহায্য করে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন আবহবিদরা।