এল নিনো এবং শীতএল নিনো নিয়ে ভয় ছিলই। আর সেই আশঙ্কাই এবার সত্যি হতে চলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি ক্রমশ তৈরি হচ্ছে। এখন আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ভাগে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর সেই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ এই বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতেই বিপদে পড়তে পারে ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশ। যার ফলে আবহাওয়ায় বিরাট পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, ভারতে চলতি বছরের শীতের উপরও প্রভাব ফেলবে কি এল নিনো? তবে এই নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কিন্তু একটা আশঙ্কা যে রয়েছে, সেটা শুনিয়ে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা।
মার্কিন ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)-এর সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছে, গত এক মাসে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা আরও বেড়েছে। এটি এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। এটি স্বাভাবিকের থেকে মোটামুটি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি গরম।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীর পর্যন্ত জল গরম হয়ে গিয়েছে। যার ফলে আগামী মাসগুলিতে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। বদলে যেতে পারে আবহাওয়া।
ইতিমধ্যেই বদলে গিয়েছে আবহাওয়া
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে এল নিনোর স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই যেমন মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অনেকটাই বেড়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার সব বেশ কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুষ্ক হচ্ছে পরিস্থিতি। এছাড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিপথেও পরিবর্তন হচ্ছে। এটাও এল নিনোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনওএএ এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলির লেটেস্ট জলবায়ু মডেলগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। আর সেটা অবশ্যই ভয়ের বিষয়।
আবহাওয়াবিদদের অনুমান, এবারের এল নিনো আগে তৈরি হওয়া এল নিনোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। আর যদি এমনটা ঘটে, তাহলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এটি নতুন করে ইতিহাস তৈরি করতেও পারে। এমনকী চলতি বছরের শীত নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এই নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি হাওয়া অফিস।
এই প্রসঙ্গে বলি, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এটি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে গেলে তৈরি হয়। এল নিনোর প্রভাব থেকে অনেকটটাই। এর জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে অতি বৃষ্টিপাত থেকে শুরু করে খরা, তাপপ্রবাহ এবং ঝড়ের আস্ফালন বাড়ে। তাই এল নিনো নিয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বিশ্বের আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ে আরও আপডেট পাওয়া যেতে পারে।