ভোটার তালিকায় নাম তুলতে এবার লাগবে মা-বাবার ‘এসআইআর’ তথ্য!এবার থেকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর মা-বাবা কিংবা দাদু-দিদার এসআইআর (Special Intensive Revision - SIR) সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। নতুন নিয়ম জারি করল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রধান আইনি নথি 'ফর্ম ৬' (Form 6)-এর অনলাইন ভার্সানে এই নতুন নিয়ম যোগ করা হয়েছে।
কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, কোনও নতুন আবেদনকারী বা ১৮ বছর পার করা নাগরিক যদি নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’ (ECINET)-এর মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে যান, তবে এই নতুন ডিক্লারেশন বা ঘোষণাপত্রের অংশটি পূরণ না করে তাঁরা ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, স্রেফ নিজের নথিপত্র দেওয়াই এবার শেষ কথা নয়, নতুন ভোটার হতে গেলে পূর্ববর্তী সংশোধনের সময় পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থান কী ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানাতে হবে কমিশনকে।
আইনে বদল না করেই পদক্ষেপ কমিশনের
কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে বেশ কিছু আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার পঞ্জীকরণ নিয়ম অনুযায়ী, ফর্ম ৬-এর মূল কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন করতে গেলে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের গ্যাজেট নোটিফিকেশন বা সরকারি বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন শীর্ষ কর্তাদের একাংশের মতে, কমিশন নিজের এক্তিয়ারে এই ফর্মে একটি কমা-ও যোগ করতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও আনুষ্ঠানিক সংশোধনী ছাড়াই সম্পূর্ণ ‘প্রশাসনিক নির্দেশের’ (Administrative Instructions) ওপর ভিত্তি করে অনলাইনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।
কমিশনের আধিকারিকেরা অবশ্য এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, এর ফলে আসল ভোটারদের চিহ্নিত করা অনেক সহজ হবে। একজন পদস্থ কর্তার কথায়, 'গত বছরের জুন মাসে বিহারে যখন এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল, তখনই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিক্লারেশন ফর্ম আনা হয়। এটি ভোটারদের ম্যাপিং করতে সাহায্য করে এবং নতুন ভোটারদের আবেদনের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়ক নথি জমা দেওয়ার বোঝাও অনেকটাই কমিয়ে দেয়।'
অনলাইন পোর্টালে ফর্ম ৬-এর পার্ট ‘জে’ এবং ‘কে’-এর মাঝখানে এই নতুন ঘোষণাপত্রটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন আবেদনকারীদের জন্য তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে:
১. আগের এসআইআর ভোটার তালিকায় আমার নিজের নাম ছিল।
২. পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকায় আমার বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুমার নাম নথিভুক্ত ছিল।
৩. পূর্ববর্তী তালিকায় আমার বা আমার পরিবারের কারও নাম ছিল না।
যদি কোনও আবেদনকারী প্রথম দু'টি অপশনের যে কোনও একটি বেছে নেন, তবে তাঁকে তাঁর মা-বাবা বা পরিবারের সেই সদস্যের বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, পোলিং বুথ নম্বর এবং ভোটার তালিকার সিরিয়াল নম্বর নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। আর যদি কারও কাছে সেই তথ্য না থাকে বা পরিবারের কারও নাম না থাকে, তবে তাঁকে বাধ্য হয়ে তৃতীয় বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। তবে সেই তৃতীয় অপশনটি সিলেক্ট করলে আবেদনের ওপর বাড়তি কোনও স্ক্রুটিনি বা কড়াকড়ি হবে কিনা, সে বিষয়ে কমিশনের পোর্টালে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, কেরালা এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে কাজ চলছে। ভুয়ো, মৃত, বা পরিযায়ী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে গিয়ে দেশজুড়ে কোটি কোটি নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল বাদ পড়ার আবহে নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে মা-বাবার পূর্ববর্তী ট্র্যাক রেকর্ড খোঁজার এই নতুন কড়াকড়ি আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের ভোটার কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।