Election Commissioner Sukhbir Sandhu Vivek Joshi এর অভিযোগে কেন পদক্ষেপ করেনি সরকার? সামনে এল

ক্যাবিনেটের নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি মনীশ গর্গকে নিয়োগ করেছিল। তবে ক্যাবিনেট সচিবালয়ের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পাওয়ার পরে তাঁর কাজকর্ম ও আচরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলি কমিশনের নিয়ম মেনেই বিবেচনা করা উচিত।

Advertisement
Election Commissioner Sukhbir Sandhu Vivek Joshi এর অভিযোগে কেন পদক্ষেপ করেনি সরকার? সামনে এলআরটিআইয়ে কী উঠে এল।
হাইলাইটস
  • ২৮ জুলাই আধিকারিকদের মধ্যে কাজের দায়িত্ব বদল করার নির্দেশ জারি করেছিলেন মনীশ গর্গ।
  • সেই সময় অন্য এক উপনির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি।

আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন। সিনিয়র উপনির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। এ বিষয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখে অভিযোগও জানান তাঁরা। কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেনি  ক্যাবিনেট সচিবালয়। তাদের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনাররা ওই চিঠি লিখেছিলেন তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ে,নির্বাচন কমিশনের তরফে নয়। তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) পাওয়া নথি থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।

২০২৬ সালের ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথনকে পৃথক চিঠি লিখেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। ওই চিঠিগুলিতে সিনিয়র উপনির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কাজের দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাবিনেট সচিবালয়ের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তার কাজকর্মে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তাই কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা না পড়লে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা সমীচীন হবে না।

কোথায় আপত্তি চিঠিতে?

২৮ জুলাই আধিকারিকদের মধ্যে কাজের দায়িত্ব বদল করার নির্দেশ জারি করেছিলেন মনীশ গর্গ। সেই সময় অন্য এক উপনির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগ ছিল, কাজের দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনার আগে কমিশনের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতামতও নেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া উচিত।

দুই কমিশনার আরও অভিযোগ করেছিলেন, এ বিষয়ে আগে মৌখিক ও লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি। বিবেক যোশীর আরও একটি অভিযোগ ছিল। এই সংক্রান্ত ফাইল দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ দেয়নি।

দুই কমিশনারের মতে, কাজের দায়িত্ব বণ্টনে এই পরিবর্তন নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী। তাঁদের দাবি, এই পদক্ষেপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনের বিধানেরও বিরোধী।

Advertisement

কেন পদক্ষেপ করল না ক্যাবিনেট সচিবালয়?

আরটিআইয়ের নথিতে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে সেগুলিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বলে গণ্য করা যায় না।  দুই কমিশনার তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাই কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক চিঠি না এলে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা সমীচীন নয়। তা করা হলে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে সরকারের হস্তক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। দুই কমিশনারকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানানো এবং চিঠির প্রতিলিপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছে পাঠানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

নথি অনুযায়ী, দুই কমিশনারের চিঠি ৫ অগাস্ট ক্যাবিনেট সচিবালয়ে পৌঁছয়। তারপর সেগুলির প্রতিলিপি পাঠানো হয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে।

বিতর্কে কী বলেছিল নির্বাচন কমিশন?

২৬ সেপ্টেম্বর এই বিতর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য ছিল, দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠিতে কমিশনের কোনও নীতি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ করা হয়নি। বরং কমিশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজকর্মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। কাজের দায়িত্ব বণ্টনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পরে কার্যকর করা হয়নি। কমিশনের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্মের উপর নজরদারির ব্যবস্থাও তুলে দেওয়া হয়নি।

কমিশনের কাজে সরকার কেন হস্তক্ষেপ করতে পারে না?

নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের অধীনে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের চাপ বা প্রভাব যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করা। ক্যাবিনেট সচিবালয় তাদের নোটে ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারারও উল্লেখ করেছে। ওই ধারা অনুযায়ী, কমিশনের যতটা সম্ভব পারস্পরিক সহমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কোনও বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

২০২৬ সালের অক্টোবরে সামনে আসা এই নথি থেকে স্পষ্ট, দুই নির্বাচন কমিশনার অভিযোগ জানিয়েছিলেন এবং ক্যাবিনেট সচিবালয় সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আরটিআইয়ের জবাবে দুই চিঠির সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগে ঠিক কী কী বলা হয়েছিল এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সব তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

POST A COMMENT
Advertisement